যানজটে আটকে সিরাজগঞ্জে বিদ্যুৎ সচিবের সফরসূচি বিপর্যস্ত, বাতিল বগুড়ার সফর

সংগৃহীত ছবি
ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশে তীব্র যানজটের কারণে বিপর্যস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখের সিরাজগঞ্জ সফরসূচি। নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছানোয় বেশিরভাগ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেননি তিনি ।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ ২৭ থেকে ২৯ মে পর্যন্ত বের হন সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া সফরে। সফরসূচি অনুযায়ী ২৭ মে বুধবার দুপুর ১২টায় তার সিরাজগঞ্জ নেসকো কার্যালয়ে পৌঁছানোর কথা ছিল। পরে দুপুর ১টার দিকে যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ সড়কের সয়দাবাদ এলাকায় অবস্থিত সিরাজগঞ্জ ৬৮ মেগাওয়াট সোলার পার্ক পরিদর্শনের কথা ছিল। তবে যানজটের কারণে বিকেল সাড়ে ৩টায় সেখানে পৌঁছান তিনি। বিকেলে বগুড়ায় পৌঁছে নেসকো বিতরণ বিভাগ-১, রহমাননগর ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র, নেসকো বিতরণ বিভাগ-৪ এবং মাটিডালি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র পরিদর্শনের সূচি নির্ধারিত ছিল। তবে সেখানেও কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেননি তিনি।
জানা যায়, সিরাজগঞ্জ ৬৮ মেগাওয়াট সোলার পার্কে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান করেন সচিব। এ সময় প্রকল্প পরিদর্শন করেন তিনি। পরে নেসকোসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে কাজের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও করেন আলোচনা। নির্ধারিত সময়সূচি ব্যাহত হওয়ায় স্থগিত হয়ে যায় পরবর্তী কর্মসূচিগুলো।
সিরাজগঞ্জ নেসকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী অশীথ পোদ্দার জানিয়েছেন, টাঙ্গাইল এলাকায় যানজটে আটকে পড়ায় সিরাজগঞ্জে পৌঁছাতে দেরি হয় সচিবের। পরে সরাসরি সয়দাবাদে সিরাজগঞ্জ ৬৮ মেগাওয়াট সোলার পার্কে যান তিনি এবং সেখানে বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও কাজের তদারকি করেন। এরপর নামাজ আদায় করে রওনা হন নিজ জেলা বগুড়ার উদ্দেশ্যে।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নেজারত শাখার সহকারী কমিশনার মো. আখিরুজ্জামান বলেছেন, নির্ধারিত অন্যান্য কর্মসূচিতে যেতে না পারলেও সোলার পার্কেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে প্রয়োজনীয় আলোচনা ও খোঁজখবর নিয়েছেন সচিব।
সিরাজগঞ্জ ৬৮ মেগাওয়াট সোলার পার্কের প্রকল্প পরিচালক তানবীর রহমানের দাবি, টাঙ্গাইলে যানজটে আটকে থাকার কারণে সচিবের পৌঁছাতে বিলম্ব হয়। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে প্রকল্প এলাকায় এসে প্রকল্প পরিদর্শন করেন তিনি। পাশাপাশি সিরাজগঞ্জের আরও দুটি নতুন প্রকল্পের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করেন কর্মকর্তাদের সঙ্গে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, সফরসূচি অনুযায়ী অন্যান্য স্থানে যাওয়া সম্ভব না হলেও সব বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সোলার পার্কেই আলোচনা সম্পন্ন করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান শেষে সচিব রওনা হন বগুড়ার উদ্দেশ্যে। রোজা থাকায় সেখানে কোনো নাস্তা বা খাবার গ্রহণ করেননি তিনি।
এদিকে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে বগুড়ার ঠনঠনিয়া এলাকায় রহমাননগর ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকলেও পরিদর্শনের কোনো কার্যক্রম হয়নি।
বগুড়ার নেসকো বিতরণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মন্নাফ জানিয়েছেন, যানজটের কারণে সচিব সময়মতো বগুড়ায় পৌঁছাতে না পারায় বুধবারের পরিদর্শন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।
নেসকোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ইমদাদুল হক বৃহস্পতিবার সকালে বলেছেন, বিদ্যুৎ সচিবের বগুড়ায় নির্ধারিত কার্যক্রম বুধবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। পরবর্তী কোনো পরিদর্শনসূচি এখনো জানানো হয়নি। তবে দপ্তরের কর্মকর্তারা প্রস্তুত রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
এর আগে ২৩ মে বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং উৎপাদন ও চাহিদার সমন্বয় বজায় রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সভায় জানানো হয়, ঈদের ছুটিতে গ্রামীণ এলাকায় লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সারা দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এসব সমিতির জেনারেল ম্যানেজারদের ফোন নম্বর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সচিবদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে, যাতে পরিস্থিতি সরাসরি মনিটরিং করা যায়।






