সাতক্ষীরা
জলাবদ্ধ এলাকায় ভেলাই ভরসা

ছবি: আগামীর সময়
দূর থেকে দেখলে নদী বা খালের দৃশ্য মনে হতে পারে। কিন্তু এটি সাতক্ষীরা পৌরসভার একটি আবাসিক এলাকা। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় এখানকার সড়ক ও বাড়ির আঙিনা পানিতে তলিয়ে থাকায় বাসিন্দাদের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে ভেলা। বাজার-সদাই, গবাদিপশুর খাবার সংগ্রহ, শিশুদের স্কুলে পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে দৈনন্দিন প্রায় সব কাজই করতে হচ্ছে ভেলায় চড়ে।
টানা ১৮ দিনের বৃষ্টিতে সাতক্ষীরা পৌরসভার নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ঘরবাড়ি, রান্নাঘর, উঠান, রাস্তাঘাট ও নলকূপ পানির নিচে চলে যাওয়ায় দুর্বিষহ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন হাজারো মানুষ। বিশুদ্ধ পানির সংকটের পাশাপাশি স্যানিটেশন ব্যবস্থাও প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
পৌরসভার ৬, ৭ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। ইটাগাছা, কামালনগর, বাঁকাল, বারুইপাড়া, পলাশপোল ও মধুমোল্লার ডাঙিসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি সরানোর কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে গেছে। ইটাগাছার বহু পরিবার ভেলা ছাড়া বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী জানান, ১ জুলাই থেকে ১৯ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত জেলায় ৫১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ভূমি নেই ভূমি অফিসের
১৯ জুলাই ২০২৬
কামালনগরের বাসিন্দা ছবিরুনেছা জানিয়েছেন, দিনের পর দিন পানির মধ্যে চলাচলের কারণে অনেকের পায়ে ক্ষত তৈরি হয়েছে। শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিদিন বাজারে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় কয়েক দিনের প্রয়োজনীয় পণ্য একসঙ্গে কিনে আনতে হয়। প্রতিবছর প্রায় ছয় থেকে সাত মাস তাদের এভাবেই পানিবন্দি থাকতে হয়।
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির নেতা আলী নূর খান বাবুল বলেছেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল ও নালা দখল এবং পরিকল্পনাহীনভাবে মৎস্য ঘের তৈরির ফলে প্রতিবছর এ সংকট দেখা দিচ্ছে। ইটাগাছা এলাকার প্রায় দেড় শ পরিবারের মধ্যে শতাধিক পরিবারের শৌচাগার পানিতে ডুবে গেছে। এতে নারী, শিশু ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু মৎস্য ঘেরের মালিক পানি আটকে রাখায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। একই সঙ্গে বাইপাস এলাকার স্লুইস গেট দিয়ে পানি বের হতে না পারা এবং অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ বলেছেন, চিংড়ি চাষের জন্য খালে নেট ও পাটা বসিয়ে যারা স্বাভাবিক পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন, তাদের নিজ উদ্যোগে সেগুলো সরিয়ে নিতে হবে। নির্দেশনা না মানলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এলাকাবাসীর ভাষ্য, কেবল সাময়িক অভিযান চালিয়ে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। খাল ও ড্রেন পুনঃখনন, পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগ বাস্তবায়ন না হলে প্রতিবছরই সাতক্ষীরার শত শত পরিবারকে ভেলায় ভেসে জীবনযাপন করতে হবে।





