খাগড়াছড়িতে ভারী বৃষ্টিতে পাহাড় ধস ও বন্যার শংঙ্কা

টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধসের শংঙ্কা দেখা দিয়েছে। ছবি: আগামীর সময়
টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধসের শংঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে চেঙ্গী নদীর পানি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধির ফলে বন্যার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এতে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে কয়েক শত পরিবার।
টানা বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ি পৌরসভার কলাবাগান, কুমিল্লাটিলা, শালবনসহ কমলছড়ি ইউনিয়নের ভূয়াছড়ি ও গোলাবাড়ি ইউনিয়নের রাবার বাগান এলাকা পাহাড় ধসের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অপরদিকে চেঙ্গী নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে পৌরসভার বাঙ্গালকাঠি, শান্তিনগর, উত্তর গঞ্জপাড়া, রাজ্যমনি পাড়া, অপর্ণা চৌধুরী পাড়া, কালাডেবা, ফুটবিলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কলাবাগান এলাকায় অন্তত দুটি জায়গায় পাহাড়ের মাটি ঝড়ে পড়ছে। পাহাড়ের ওপরে রয়েছে সরকারি বাংলো, পাকা সীমানাপ্রাচীর ও ধস প্রতিরোধে ধারক দেয়াল। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে মানুষ।
কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা শাহিনুর বেগম বলেছেন, ‘বৃষ্টি হলেই সন্তানদের নিয়ে আতংকে থাকি। রাতে ঘুমাতে পারি না।’ কর্তৃপক্ষের কাছে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান তিনি।
একই এলাকার বাসিন্দা মো. নজরুল ইসলাম বললেন, বৃষ্টি হলে মাইকিং করা হয় আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য। আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে তো দুই-তিন দিন পর ফিরে আসতে হয়। কিন্তু আমাদের ঝুঁকি ঠিকই রয়ে যায়।’
গতকাল সোমবার রাত থেকে ভারী বৃষ্টি হওয়ায় খাগড়াছড়ি সদরের পাশদিয়ে বয়ে যাওয়া চেঙ্গী নদীর পানি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (দুপুর ১২টা) নদীর পানি বিপৎসীমার নীচে রয়েছে।
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফারিয়া সুলতানার ভাষ্য, উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে পাহাড় ধসে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের তালিকা করা হয়েছে। বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসকে যে কোনোপরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে দুর্গতদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলার প্রস্তুতি চলছে।





