চকরিয়া ও মাতামুহুরীর ১০ ইউনিয়ন প্লাবিত, বাড়ছে দুর্ভোগ

হাঁটু সমান পানি উঠেছে লোকালয়ে - আগামীর সময়
টানা তিন দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার অন্তত ১০টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় মাতামুহুরী নদীর পানিও কমছে না। এতে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পুকুর তলিয়ে গিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টিতে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী, ফাঁসিয়াখালী, ডুলাহাজারা, কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর, কৈয়ারবিল ও চিরিংগা এবং মাতামুহুরী উপজেলার সাহারবিল, কোনাখালী ও ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার অন্তত ১৮টি সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
উজানের বান্দরবানের আলীকদম ও লামা উপজেলায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় মাতামুহুরী নদীর পানি কমছে না। কোনাখালীর পুরুইত্যাখালী, মরংঘোনা, বাংলাবাজার ও বদরখালীর কয়েকটি এলাকায় বেড়িবাঁধ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ ছাড়া উপজেলার ১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ব্যাহত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, মাতামুহুরী নদীর বিপৎসীমা ৫ দশমিক ৭ সেন্টিমিটার। গত সোমবার রাতে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলেও মঙ্গলবার সকালে তা নেমে যায়।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মঙ্গলবারও বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিল।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চকরিয়া পৌরসভার ভরামুহুরী এবং বরইতলী, সাহারবিল ও কাকারা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বরইতলী ইউনিয়নের শান্তিবাজার ও গোবিন্দপুর গ্রামের অন্তত পাঁচটি সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। উত্তর বরইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে।
বরইতলীর শান্তিবাজার গ্রামের বাসিন্দা জামাল উদ্দিন আক্ষেপ করেন, ভারী বৃষ্টিতে খাল-বিল ও রাস্তায় পানি জমে গেছে। এতে মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ঘরবাড়িও তলিয়ে যেতে পারে।
কৈয়ারবিলের বাসিন্দা ফাহিমা জান্নাত বললেন, টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে বাড়ির উঠোনে পানি জমে গেছে। ঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজও করা যাচ্ছে না। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, নদীর সঙ্গে সংযুক্ত অনেক খাল ও ছড়া দখল হয়ে যাওয়ায় পানি ঠিকমতো নামতে পারছে না।
চকরিয়া ইউএনও শাহীন দেলোয়ারের দাবি, বর্তমানে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক নিচে রয়েছে। তবে টানা বৃষ্টিতে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বান্দরবানের আলীকদম ও লামা এলাকায় বৃষ্টিপাত কমলে দ্রুত পানি নেমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইউএনও আরও বললেন, কত মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ইউনিয়নের প্রশাসক, চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কাছে তালিকা চাওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।




