সার নিয়ে কুড়িগ্রামে উত্তেজনা, বস্তা লুট- সড়ক অবরোধ

ভুরুঙ্গামারীতে খোলা বাজারে সার বিক্রির দাবিতে সড়কে কৃষকদের বিক্ষোভ। ছবি: আগামীর সময়
কৃষকদের সার বিতরণ ঘিরে কুড়িগ্রামের দুই উপজেলায় আজ দিনভর চলে উত্তেজনা। সকালে রৌমারীতে একটি গুদাম ভেঙে কয়েক বস্তা সার লুটের ঘটনা ঘটেছে। কাছাকাছি সময় আরেকটি গুদামেও হয়েছে হট্টগোল।
কিছুদিন আগেই জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় সার লুটের এমন একটি ঘটনা বেশ আলোচিত হয়। আজ দুপুরের দিকে এই উপজেলায় আবারও সার সংকটের আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে। সড়ক আটকে সেখানে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় কৃষকরা। অবরুদ্ধ করেন কৃষি কর্মকর্তাকে।
আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে সোনাহাট ইউনিয়নের পাটেশ্বরী ব্রিজ পাড় এলাকার মেসার্স আফি সার ঘরে এ ঘটনা ঘটেছে।
বিএডিসি সার ডিলার আমজাদ হোসেনের গুদাম এটি। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন জানায়, বেলা ১১টার দিকে সেখানে সার বিতরণ শুরু হয়। বিপুল কৃষক জড়ো হন গুদামের বাইরে।
এর মধ্যে কয়েকজন কৃষক খোলাবাজারে সার বিক্রি করার দাবি তুলে সড়কে অবস্থান নেন। তাদের অভিযোগ, সারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। পুরো দিন এভাবে পেরিয়ে যায়। দিনের উপার্জনের ৭০০ টাকা ক্ষতি হয় তাদের।
এ সময় কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারকে ঘিরে ধরে খোলাবাজারে সার বিক্রির দাবি জানান তারা।
কৃষি কর্মকর্তা বললেন, ‘সোনাহাট ইউনিয়নের চার ওয়ার্ডের কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করার কথা ছিল আজ। তবে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বিপুল কৃষক সেখানে উপস্থিত হন। তারা উত্তেজিত হয়ে আমাকে ঘিরে ধরে এবং সড়ক অবরোধ করেন।’
খবর পেয়ে সেখানে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেব নাথ, সহকারী কমিশনরা (ভূমি) আমিনুল হক তারেক, ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী আলাউদ্দিন মণ্ডল ও সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম আকন্দ।
তারা গিয়ে খোলা বাজারে সার বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিলে সড়ক থেকে সরে যান কৃষকরা। পরে তাদের মধ্যে ৩৩৫ বস্তা ডিএপি, ৯৫ বস্তা টিএসপি ও ১৫৭ বস্তা এমওপি সার বিতরণ করা হয়— জানান ওসি আজিম।
ইউএনও অমৃত দেব নাথ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন শান্ত। খোলাবাজারে সার বিক্রির বিষয়ে সোমবার বিকালে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভা ডাকা হয়েছে। কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে সকালে রৌমারীর বন্দবেড় ইউনিয়নের মেসার্স মিতা হাসান এন্টারপ্রাইজের গুদামে ঘটেছে সার লুটের ঘটনা।
কৃষকরা জানিয়েছেন, সকাল ৯টায় তাদের মধ্যে সার বিতরণ করার ছিল। নিধারিত সময়ে এসেও সেখানে ডিলারকে পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে একপর্যায়ে গেট ভেঙে সারের বস্তা নিয়ে যান তারা।
একই সময় রৌমারী বাজারের মেসার্স অনুপম ট্রেডার্সের সার বিক্রয়কেন্দ্রেও গেট ভেঙে সার নেওয়ার চেষ্টা করেন কৃষকরা। সেখানে পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুবুল হাসান বলেছেন, আমন মৌসুমে একসঙ্গে বিপুল কৃষক সার সংগ্রহ করতে আসায় গুদামগুলোতে চাপ পড়েছে। এ কারণে দীর্ঘ সময় তাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আতঙ্কিত না হয়ে নিয়ম মেনে সার সংগ্রহের আহ্বান জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবুল আলম বলেছেন, ‘রৌমারীতে কোনো সার সংকট নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুদ রয়েছে। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী নিয়ম মেনে সার বিতরণ করা হচ্ছে।’
বিপুল কৃষক নিয়ম মেনে সার না নেওয়ায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে মনে করেন রৌমারী থানার ওসি মো. কাউসার আলী। সকালের ঘটনায় শতাধিক বস্তা লুট হলেও পরে পুলিশ পরিস্থিতি সামলে যথাযতভাবে সার বিতরণের ব্যবস্থা করেছে বলে জানান তিনি।
গত ২৩ আগস্ট ভূরুঙ্গামারীর শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙা বাজারে ঘটেছে এমন ঘটনা। সেখানে চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের গুদাম ভেঙে ২০২ বস্তা ইউরিয়া লুট করেন কৃষকরা। পরে অবশ্য প্রশাসনের উদ্যোগে বেশিরভাগ বস্তা উদ্ধার করা হয়।








