রামু
প্রসূতি-নবজাতকের মৃত্যুর পর ক্লিনিক বন্ধ, ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

কক্সবাজারের রামুতে প্রসূতি মা ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার পর বেসরকারি একটি ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ‘আস শেফা মেডিকেল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রামু উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট স্বরূপ মুহুরীর নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা আহমেদ হাসনাইনও উপস্থিত ছিলেন। অভিযান শেষে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্লিনিকটির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট স্বরূপ মুহুরী বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি আবাসিক ভবনে প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল ও ক্লিনিক্যাল ছাড়পত্র ছাড়াই ‘আস শেফা মেডিকেল সেন্টারের’ কার্যক্রম চলছিল। অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর ক্লিনিকটিতে শিরিন আকতার নামের এক প্রসূতি ও তার নবজাতকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
রবিবার সকালে রামু উপজেলা পরিষদের সামনে নিহত নারীর স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা ঘটনায় জড়িত চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রসূতিকে স্বাভাবিক প্রসব করানোর কথা বলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করানো হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলেও প্রয়োজনীয় ও যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে প্রসূতি মা ও তার নবজাতকের মৃত্যু হয়।
বক্তারা বলেন, একজন মায়ের সঙ্গে তার অনাগত সন্তানের এমন করুণ মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
তবে প্রসূতির চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক জমিলা রশিদ শবনম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। রবিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি ভুল চিকিৎসা ও সময়ক্ষেপণের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
এদিকে ক্লিনিকটির বৈধ কাগজপত্র না থাকার বিষয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে সামনে আসায় স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। চিকিৎসাসেবার মতো স্পর্শকাতর খাতে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা ছাড়া একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে দীর্ঘদিন কার্যক্রম চালিয়ে গেল এ প্রশ্নও উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
নিহত প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা ভুল ছিল কি না তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।





