জেলার সেরা স্কুলের ছাদে ফাটল, ভবন জরাজীর্ণ

ছবি: আগামীর সময়
জেলার সেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে নেত্রকোনার পুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অথচ এই অর্জনের আড়ালে রয়েছে অবকাঠামোগত সংকট। ফাটল ধরা, জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন ক্লাস করছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। সাফল্য আর অনিরাপত্তার এই বৈপরীত্য উদ্বেগ বাড়িয়েছে স্থানীয়দের।
১৯৯৭ সালে নির্মিত একতলা ভবনটির ছাদে দেখা দিয়েছে ফাটল। খসে পড়ছে পলেস্তারা। নষ্ট হয়ে গেছে দরজা-জানালাও। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভূমিকম্প বা বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে আরও ভয়াবহ হতে পারে পরিস্থিতি।
১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বিদ্যালয়টি। এটি মোহনগঞ্জ-ধর্মপাশ সড়কের পাশে উপজেলার বামেরচর এলাকায় অবস্থিত। ১৯৭৩ সালে করা হয় জাতীয়করণ। বিদ্যালয়ে রয়েছে সাতজন শিক্ষক ও ১৬৭ জন শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিন নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ায় পাঠদান চলছে দুটি একতলা ভবনেই।
এর মধ্যে ১৯৯৭ সালে নির্মিত ভবনটি মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। ২০০৬ সালে নির্মিত অন্য ভবনটিতে শ্রেণিকক্ষ মাত্র তিনটি। ফলে বাধ্য হয়ে শ্রেণি কার্যক্রম চলছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই। ওই ভবনেই রয়েছে শিক্ষকদের অফিস কক্ষও।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে ক্ষুদ্র মেরামতের কোনো বরাদ্দও পায়নি প্রতিষ্ঠানটি। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলায় নতুন কয়েকটি বিদ্যালয় মেরামতের বরাদ্দ পেলেও সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও বঞ্চিত হয়েছে পুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
প্রায় দুই বছর আগে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন নন-ক্যাডার কর্মকর্তা সোহাগ সিদ্দিকী। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি শিক্ষার্থীদের পাঠে আগ্রহ বাড়ানো থেকে শুরু করে তার নানা উদ্যোগে জেলার সেরা স্বীকৃতি পেয়েছে বিদ্যালয়টি।
প্রধান শিক্ষক সোহাগ সিদ্দিকী বলেছেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হলেও সবচেয়ে বড় সমস্যা শ্রেণিকক্ষের সংকট। বাধ্য হয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে। বহুবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় মেরামতের ব্যবস্থা হলে নিরাপদ পরিবেশে পাঠ নিতে পারবে শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির অভিভাবক সদস্য আরিফুল ইসলাম বলেছেন, জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি গর্বের হলেও অবকাঠামোগত দিক থেকে প্রতিষ্ঠানটি উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার। একটি ভবন মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ, অন্য ভবনেও নেই পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ। তাই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পাঠ নিচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তথ্য এরইমধ্যে পাঠানো হয়েছে অধিদপ্তরে। তবে এখনো বরাদ্দ মেলেনি নতুন ভবনের। অধিদপ্তর থেকেই নির্ধারণ করা হয় ক্ষুদ্র মেরামতের বরাদ্দ। এ ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা নেই উপজেলা পর্যায়ের।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুন আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, ভবনের ফাটলসহ প্রয়োজনীয় মেরামতের কাজ দ্রুত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আবেদনও করা হবে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল আজম আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তথ্য উপজেলা পর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে পাঠানো হয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





