সারজিস-পাটওয়ারীর নামে মারধর ও আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ থানায়

এনসিপি নেতা সারজিস আলম (বাঁয়ে) ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
হবিগঞ্জে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ছাত্রশক্তির মামলার পর এবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নামে হয়েছে মামলার আবেদন। ছাত্রদলের করা আবেদনে হত্যাচেষ্টা, আইফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। আসামি হিসেবে দেওয়া হয়েছে সারজিস, পাটওয়ারীসহ দলটির ১০ নেতাকর্মীর নাম। অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে করা হয়েছে আসামি।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় এই আবেদন করেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন রোকন। তবে আজ শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত সেটি মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়নি- জানিয়েছেন থানার ওসি জাহিদুর রহমান।
এজাহারে বাদীর অভিযোগ, গত মঙ্গলবার বিকালে জুলাই শহীদ রিপন শীলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং শোকসভায় অংশ নিতে শহরের কোর্ট মসজিদের সামনে জড়ো হন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলম, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, মাহবুবুল বারী চৌধুরীসহ ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়।
বাদী উল্লেখ করেন, হামলায় আহত হয়েছেন জেলা ছাত্রদল নেতা মাহফুজ চৌধুরী, মোজাক্কির হোসেন ইমনসহ কয়েকজন। ছিনিয়ে নেওয়া হয় বাদীর আইফোন-১৩, মোজাক্কির হোসেনের আইফোন-১১, মাহফুজ চৌধুরীর আইফোন-১৪-সহ পাঁচটি মোবাইল ফোন ও কয়েক নেতার কাছে থাকা বড় অঙ্কের টাকা।
আজ দুপুরে এ নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন এনসিপি উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি লিখেছেন, ‘আওয়ামী লীগ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ি ভাঙচুরের মামলা দিয়েছিল! গতকাল হবিগঞ্জের সন্ত্রাসীদের আশ্রয়স্থল গউছ এমপির নির্দেশে তার পালিত ছাত্রদল আমাদের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের মামলা দিয়েছে! সেই পুরনো অভ্যাস। নিজেদের মতো সবাইকে ভাবলে তো হবে না! বি অ্যা লিটল ডিগনিফাইড, প্লিজ!’
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচি ঘিরে। সেদিন সন্ধ্যায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিসের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিবাদে পরদিন আবারও হবিগঞ্জে কর্মসূচি দেয় এনসিপি। একই দিনে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলও দেয় পাল্টা কর্মসূচি। এদিন সকাল থেকে জেলায় জারি করা হয় ১৪৪ ধারা।
বুধবার বিকালে হবিগঞ্জে প্রবেশের সময় এনসিপির গাড়িবহর আটকে দেয় পুলিশ। দলটির নেতাদের সঙ্গে ঘটে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনাও। পরে এনসিপি নেতারা ঘটনাস্থলের পাশের কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনসহ শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এজাহার জমা দেন।
তাতে অভিযোগ করা হয়, মঙ্গলবার হামলাকারীরা ক্যামেরা, ল্যাপটপসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি এবং গাড়িতে থাকা ৫ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। ভাঙচুর করা হয়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা মূল্যের গাড়ি।
এরপর বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় পাল্টা এজাহার জমা দিলেন ছাত্রদল নেতা ইকবাল হোসেন।
থানার ওসি জাহিদুর আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘এনসিপির পক্ষ থেকে করা মামলাটি সেদিন রাতেই নথিভুক্ত হয়েছে। তবে ছাত্রদল নেতার দেওয়া এজাহারের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সিদ্ধান্ত হলে জানানো হবে।’








