‘বিএনপি নেতার মারধরে’ অসুস্থ কৃষকের মৃত্যু

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় বিএনপি নেতার মারধরে এক কৃষকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মারধরেই মৃত্যু কি না- জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানোর কথা জানিয়েছে থানা পুলিশ।
মৃত কৃষক জামিল হোসেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার হরিনা গ্রামের আবু মণ্ডলের ছেলে। তাকে মারধরের অভিযোগ ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক এবং বর্তমানে ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে।
জামিলের স্বজনরা জানান, ধান মাড়াইয়ের কাজ করতে প্রায় ২০ দিন আগে মেয়ে, জামাতা ও চাচাতো ভাইকে নিয়ে ভাঙ্গুড়ায় আসেন তিনি। উপজেলার কৈডাঙ্গা গ্রামে রেললাইনের পাশে একটি ভাড়া বাসায় উঠেছিল পরিবারটি।
জামিলের জামাতা আব্দুল কাদেরের অভিযোগ, গতকাল শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে দ্রুত ধান মাড়াইয় শেষ করার জন্য জামিলকে চাপ দেন ইউসুফ আলী। কিছুটা দেরি হবে জানালে তিনি ক্ষেপে গিয়ে মাড়াই মেশিনের চাবি কেড়ে নেন। চাবি ফেরত চাইলে সেই চাবি দিয়েই জামিলকে আঘাত করেন তিনি।
কাদেরের ভাষ্য, ‘মারধরে অসুস্থ হয়েও জামিল প্রায় তিন বিঘা জমির ধান মাড়াই শেষ করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি বাড়ি ফেরেন। পরে পাশের নদীতে গোসল করতে যান। গোসল শেষে ফিরে আসার পরপরই তিনি মারা যান।’
আব্দুল কাদের জানান, জামিল আগে থেকেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইউসুফ আলীর চাপে তারা দ্রুত মরদেহ নিয়ে এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে ভাঙ্গুড়া থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ নিজেদের হেফাজতে নেয়।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউসুফ আলীর মোবাইল ফোনে কল করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। বাড়িতেও গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূর-মুজাহিদ স্বপন জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে তিনি অবগত নন।
সুরতহালে মরদেহের মাথার পেছনে কাটা দাগ পাওয়া গেছে বলে জানালেন ভাঙ্গুড়া থানার এসআই সুব্রত কুমার। মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার কারণে ওই আঘাত লেগে থাকতে পারে বলে ধারণা তার।
ভাঙ্গুড়া থানার ওসি সাকিউল আজম জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় আপাতত একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।





