তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ভাঙন, বিলীন ১৪ লাখ টাকার পাইলিং

ছবি: আগামীর সময়
টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। একইসঙ্গে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে।
পানির তীব্র স্রোতে মুহূর্তেই বিলীন হয়ে গেছে ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঁশের পাইলিং। ভাঙন অব্যাহত থাকায় তিস্তা সেতু, রংপুর-লালমনিরহাট সড়কসহ হুমকির মুখে পড়েছে আশপাশের কয়েকটি চরাঞ্চল। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপারের বাসিন্দারা।
চলতি বর্ষা মৌসুমে প্রথম তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পায় গতকাল শনিবার সকালে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেয় কর্তৃপক্ষ। এতে ভাটির এলাকায় নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। সন্ধ্যার দিকে ভাঙন শুরু হয় গঙ্গাচড়ার মহিপুর এলাকায় তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে। রাত ৮টা পর্যন্ত নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় প্রায় ৩০ মিটার বাঁধ। সেখানে প্রায় ৬০ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, রংপুর ও লালমনিরহাট জেলার মধ্যে যোগাযোগ সহজ করতে ২০১৮ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ১৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় সেতু নির্মাণ করে গঙ্গাচড়ার মহিপুরে তিস্তা নদীর ওপর।
গত বছরের আগস্টে উজানের ঢলের আঘাতে ভেঙে যায় বাঁধের ১০০ ফুট অংশ। তখন এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে দায়িত্ব নিয়ে টানাপোড়েনের পর বাঁশের পাইলিং করা হয় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে স্থায়ী ব্যবস্থা না নেওয়ায় এবারও শুরু হয়েছে ভাঙন।
বাঁধসংলগ্ন শংকরদহ এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হামিদ বলেছেন, ‘বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই ভাঙন শুরু হওয়ায় চরাঞ্চলের মানুষ চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। বাঁধ ভেঙে সেতুর ক্ষতি হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।’
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেছেন, ‘গত বছর ভাঙন দেখা দেওয়ার পর ব্লক ফেলে বাঁধ সুরক্ষার পরামর্শ দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। পরিবর্তে বাঁশের পাইলিং নির্মাণ করা হয়েছিল, যা এবার টিকতে পারেনি।’
তার দাবি, ‘যথাযথ পরিকল্পনার অভাব ও সরকারি অর্থের অপচয়ের কারণেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’
গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রকৌশলী ওবায়দুর রহমান জানিয়েছেন, গত বছর ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শে নির্মাণ করা হয়েছিল বাঁশের পাইলিং। নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার জানান, তিনি এরইমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। ভাঙনরোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।




