ইতালিতে নিহত প্রবাসী
‘এক বছর আগে হত্যার হুমকি দিয়ে উড়ো চিঠি পাঠিয়েছিল’

স্ত্রী, মেয়েসহ নিহত কামাল উদ্দিন বাবুল ও তার গ্রামের বাড়ি— সংগৃহীত
ইতালির রাজধানী রোমে স্ত্রী ও মেয়েসহ নিহত কামাল উদ্দিন বাবুলকে প্রায় এক বছর আগে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তার বাবা সিরাজুল ইসলাম। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতমের মধ্যেই তিনি এ দাবি তুলে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
আজ শনিবার দুপুরে চরকাঁকড়া ইউনিয়নে নিহত কামাল উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়ে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে আসছেন স্বজনরা।
নিহতের বাবা সিরাজুল ইসলাম বললেন, ‘প্রায় এক বছর আগে আমার ছেলে দেশে এলে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আমাদের বাড়িতে একটি উড়ো চিঠি পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি আমরা মৌখিকভাবে কোম্পানীগঞ্জ থানাকে জানিয়েছিলাম।’
তিনি আরও জানান, গতকাল শুক্রবার ইতালির স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলের অরেলিও এলাকার ভিয়া মন্টিগ্লিও সড়কের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। তার দাবি, হত্যাকাণ্ডে জড়িত রয়েছেন নিহত বাবুলের বন্ধু ও একই গ্রামের প্রবাসী শাহাদাত।
নিহতরা হলেন কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী মমতাজ বেগম আরজু (৩৮) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরওয়া ইসলাম আরিশা। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তাদের ছেলে আমির হোসেন অয়ন (১৮)। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মরদেহগুলো উদ্ধার করেছে এবং আহত অয়নকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
ইতালির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে ওই আবাসিক ফ্ল্যাট থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধারালো অস্ত্রের উপর্যুপরি আঘাতে তাদের হত্যা করা হয়েছে। পরে রোম পুলিশের বিশেষ শাখা ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেন।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকীম বলেছেন, ‘তৎকালীন সময়ে ভুক্তভোগী পরিবার মৌখিকভাবে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছিল। এরপর পুলিশ নিয়মিত রাত্রীকালীন টহলের মাধ্যমে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।’





