শিশুদের ডে-কেয়ার ফি অর্ধেক কমে ১৫০ টাকা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ডে-কেয়ার সেন্টার— আগামীর সময়
চার দিকে বাউন্ডারি দেয়াল। মাঝে ছোট্ট দুইতলা ভবন। যেন একটি বাংলো বাড়ি। বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ বাড়ি মনে হলেও এর ভেতরে রয়েছে শিশুদের জন্য ভিন্ন এক জগৎ। ভালোবাসা, যত্ন আর হাসিতে ভরা এক নিরাপদ আশ্রয়। ৫-৬ রুম নিয়ে গড়ে ওঠা এই ডে-কেয়ার সেন্টারে ৩০ জন শিশু থাকার জন্য আদর্শ। তবে গড়ে প্রতিদিন ২৪ থেকে ২৫ জন শিশুর কোলাহলে মুখর থাকে পুরো পরিবেশ। এখানে রয়েছে একজন প্রধান শিক্ষক, একজন সহকারী শিক্ষক, ৩ জন শিশুপরিচর্যাকর্মী, একজন রাঁধুনি, একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও একজন নিরাপত্তাকর্মী। সবাই মিলে শিশুদের জন্য তৈরি করেছে পরিবারসুলভ এক উষ্ণ পরিবেশ। ডে-কেয়ার সেন্টারের অবস্থান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) নারীদের আবাসিক বাসস্থান বিজয় ২৪ হলের পাশে।
একসময় ছোট সন্তান নিয়ে ক্লাসে অংশ নিতে গিয়ে নানা বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হতো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক নারী শিক্ষার্থীকে। তাদের সুবিধার জন্য ২০২৩ সালে চবিতে কর্মরত নারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানদের নিরাপদ তত্ত্বাবধান ও সুষ্ঠু লালন-পালন নিশ্চিতের লক্ষ্যে ক্যাম্পাসের ভেতরে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ডে-কেয়ার সেন্টার চালু হয়।
এই ডে-কেয়ারে রাখা হয় দেড় থেকে চার বছর বয়সী শিশুদের। তাদের মায়েরা কেউ ক্লাস করছেন, কেউবা চাকরির গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত। আবার কেউ ব্যস্ত পরীক্ষার প্রস্তুতিতে। সেই সময়টুকুতে শিশুদের দেখভাল, খাওয়া-দাওয়া, খেলাধুলা ও যত্নের দায়িত্ব নেয় এই কেন্দ্র। বেশির ভাগ সময় এখানেই কাটে ছোট ছোট শিশুর আনন্দময় দিন। মায়ের অনুপস্থিতিতে এই ডে-কেয়ারই হয়ে ওঠে তাদের দ্বিতীয় বাড়ি, আর এখানকার কর্মীরাই হয়ে ওঠেন তাদের দ্বিতীয় পরিবার।
চবি শিশু ডে-কেয়ার সেন্টারের পরিচালক প্রফেসর সালমা মমতাজ বললেন, ‘মেয়েরা আবেদন জানিয়েছিল ফি কমানোর জন্য। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি ভেবে পাস করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বিবাহিত নারী শিক্ষার্থীরা যাতে মাতৃত্বের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পড়াশোনায় বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে।’
চাকসুর ছাত্রীকল্যাণ সম্পাদক নাহিমা আক্তার দ্বীপা বললেন, ‘সন্তানদের নিরাপদ পরিবেশে রেখে নিশ্চিন্তে ক্লাস ও একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতেই ডে কেয়ার সেন্টারের নতুন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন থেকে এক বছরের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য দৈনিক ১৫০ টাকার বিনিময়ে এ সেবা পাওয়া যাবে।’





