কুড়িগ্রামে ডিলারের গুদাম ভেঙে সার নেওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি, ১১৫ বস্তা উদ্ধার

কৃষকদের ফেরত দেওয়া ১১৫ বস্তা সার। ছবি: আগামীর সময়
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সার না পাওয়ার আশঙ্কায় বিসিআইসি অনুমোদিত এক সার ডিলারের গুদামের দরজা ভেঙে ইউরিয়া সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙা বাজারে মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের গুদামে। পরে কৃষকরা নেওয়া সার ফেরত দিতে শুরু করেন।
আজ সোমবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত ১১৫ বস্তা সার ফেরত দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৪ বস্তা সারের মূল্য নগদে পরিশোধ করেছেন কয়েকজন কৃষক।
ঘটনার পর রবিবার রাতেই উপজেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) সভাপতি এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। কমিটিকে সোমবারের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আজ দুপুরে সরেজমিনে স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোপা আমনের ভরা মৌসুমে কয়েক দফা ডিলারের কাছে গিয়েও তারা সার পাননি। অথচ খোলাবাজারে বেশি দামে সার পাওয়া যাচ্ছিল। প্রয়োজন অনুযায়ী সার না পাওয়া এবং বিতরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
কৃষকদের অভিযোগ, রোপা আমন চাষের শুরুতে ডিলার দুই কিস্তিতে বরাদ্দ পাওয়া সার উত্তোলন করলেও তা যথাযথভাবে বিতরণ করেননি। আগস্ট মাসের বরাদ্দের ৩৪০ বস্তা ইউরিয়া সার উত্তোলন করে গুদামে রাখা হয়। রবিবার সার দেওয়া হবে এমন খবর পেয়ে প্রায় ৫০০ কৃষক ডিলারের পয়েন্টে জড়ো হন। পরে ৩৪০ বস্তা সার মজুত থাকার কথা জানতে পেরে সার না পাওয়ার আশঙ্কায় একপর্যায়ে গুদামের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সার নিয়ে যান কৃষকরা।
তবে ঘটনার পর ডিলার মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের মালিক তাইফুর রহমান মুকুল ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার জানিয়েছেন, চলতি রোপা আমন মৌসুমে শিলখুড়ি ইউনিয়নে ১ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। আগস্ট মাসে ইউনিয়নটির জন্য ইউরিয়া সারের বরাদ্দ ছিল ৬৮ টন। উপজেলায় বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই বলেও জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেব নাথ জানিয়েছেন, উপজেলার প্রতিটি সার ডিলার পয়েন্টে ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। এখন থেকে ট্যাগ কর্মকর্তা ও পুলিশের উপস্থিতিতে সার বিতরণ করা হবে। কৃষকদের গুদাম থেকে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







