সড়কে ৯৬ বৈদ্যুতিক খুঁটি, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি
- চার বছরেও অপসারণ হয়নি চকরিয়ার ইয়াংছা-সুরাজপুর-শান্তিবাজার সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সড়কটি এখন আগের চেয়ে প্রশস্ত। বেড়েছে যানবাহন চলাচল। কিন্তু পথের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো যেন সেই স্বস্তিতে বাধা। বাঁক ঘুরলেই সামনে পড়ে খুঁটি। পাশ কাটাতে গিয়ে কমাতে হয় গাড়ির গতি। দিনের বেলায় কোনোভাবে সামলে নেওয়া গেলেও রাতে বাড়ে দুর্ঘটনার শঙ্কা। কক্সবাজারের চকরিয়ার ইয়াংছা-সুরাজপুর-শান্তিবাজার সড়কের ১৭ দশমিক ৬০ কিলোমিটার অংশে এমন ৯৬টি বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই চলছে যানবাহন। সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শেষ হয়েছে প্রায় চার বছর আগে, কিন্তু এখনো সরানো হয়নি খুঁটিগুলো।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর বলছে, ১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ মহাসড়কটির চকরিয়া অংশে রয়েছে ৯৬টি বৈদ্যুতিক খুঁটি। এর মধ্যে সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের কাকারা মাঝেরফাঁড়ি ব্রিজ থেকে সুরাজপুর ভিলেজারপাড়া পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার অংশেই রয়েছে ২৫টি খুঁটি। বিশেষ করে বাঁকযুক্ত অংশে এসব খুঁটি যানবাহন চলাচলে বাধা তৈরি করছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
চকরিয়ার সঙ্গে পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা উপজেলার যোগাযোগ সহজ করতে প্রশস্ত করা হয় সড়কটি। ৫৫ কোটি ২২ লাখ ৯৩ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে। নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২২ সালের ৩০ জুন। ওই বছরের ২১ ডিসেম্বর সড়কটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী।
প্রকল্পের আওতায় সড়কটির বিভিন্ন অংশে সম্প্রসারণ ও নতুন নির্মাণকাজ করা হয়। সওজের তথ্য অনুযায়ী, ১১ দশমিক ৫০ কিলোমিটার অংশে নমনীয় পেভমেন্ট প্রশস্ত করা হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে ৩০০ মিটার দৃঢ় পেভমেন্ট ও ১১টি আরসিটি বক্স কালভার্ট। এ ছাড়া কৈয়ারবিল ও সুরাজপুর এলাকায় নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫০ কিলোমিটার সড়ক।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটি নির্মাণের ফলে তাদের যোগাযোগব্যবস্থা আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে। ইয়াংছা ভিলেজারপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল আলীম বলেন, ‘আগে ইয়াংছা বাজার থেকে হাঁসের দীঘি হয়ে চকরিয়া শহরে যেতে হতো। এখন সুরাজপুর হয়ে সহজেই যাওয়া যায়। তবে সড়কের ওপর খুঁটি থাকায় যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করে।’
চালকেরা বলছেন, খুঁটিগুলোর কারণে যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। ট্রাকচালক রফিকুল আলম বলেন, ‘লামা ও আলীকদম থেকে চকরিয়া সদরে আসার জন্য এই সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সড়কের ওপর বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকায় গাড়ি চালানো ঝুঁকিপূর্ণ। আঁকাবাঁকা সড়কে রাতে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। কয়েক দিন আগে একটি পিকআপ খুঁটির কারণে খাদে পড়ে যায়।’
স্থানীয় দোকানি ফজল করিমের অভিযোগ, সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বুঝিয়ে দিয়ে চলে গেছে। কিন্তু বৈদ্যুতিক খুঁটি সরানো হয়নি। তার ভাষ্য, সওজ ও বিদ্যুৎ বিভাগের মধ্যে চিঠি চালাচালি হলেও বিষয়টির সমাধান হয়নি। ফলে স্থানীয় মানুষ ও যানবাহনকে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
সওজের চকরিয়া সড়ক উপবিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘আমি কিছুদিন আগে এ কার্যালয়ে যোগ দিয়েছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। সড়কের ওপর বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকা বিপজ্জনক। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’
কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চকরিয়া বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ এমরান গণি বলেন, ‘সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শুরুর সময় সওজকে খুঁটি সরানোর বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল।’ তার দাবি, নির্মাণকাজ চলাকালে খুঁটি সরানোর বিষয়ে সওজের সঙ্গে একাধিকবার চিঠি চালাচালি হলেও কোনো সমাধান হয়নি। প্রকল্পে খুঁটি সরানোর বরাদ্দ থাকলে অথবা সওজ থেকে আলাদা বরাদ্দ পাওয়া গেলে খুঁটি সরানোর কাজ শুরু করবেন তারা।




