এক গ্রাম, দুই মণ্ডপ, ৩৫৩ প্রতিমা
- ডুমুরিয়ায় দুর্গোৎসব ঘিরে দর্শনার্থীদের ঢল

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রুদাঘরা ইউনিয়নের খরসংগ গ্রামে আধা কিলোমিটারের মধ্যে দুটি মন্দিরে তৈরি হয়েছে ৩৫৩টি প্রতিমা। এর মধ্যে খরসংগ কালার বটতলা সার্বজনীন পূজা মন্দিরে ২০১টি এবং খরসংগ মিকশিমিল সাহাপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দিরে ১৫২টি প্রতিমা গড়া হয়েছে। দুর্গোৎসব ঘিরে ব্যতিক্রমী এই আয়োজন দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
সরেজমিনে কালার বটতলা মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, আলোকসজ্জায় সাজানো মণ্ডপে ভাস্কররা প্রতিমায় রঙ করছেন। কাজ শেষ না হলেও দর্শনার্থীদের আনাগোনা থেমে নেই। স্কুলশিক্ষার্থী তৃপ্তি রায়, চৈতি রায় ও তপতি চৌধুরী স্কুলে যাওয়ার আগেই দুই মন্দিরের প্রতিমা দেখতে এসেছে। তাদের ভালো লেগেছে সাহাপাড়া মন্দিরের বড় হনুমান ও রাম-লক্ষ্মণ-সীতার প্রতিমা এবং কালার বটতলার বকাসুর বধ ও গোপাল ভাঁড়-মন্ত্রীর মূর্তি।
দুই মন্দিরেই চার মাস ধরে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। সাতক্ষীরার ঘোষনগর গ্রামের ভাস্কর শিমুল দাস সাড়ে ৩ লাখ টাকা পারিশ্রমিকে সাহাপাড়া মন্দিরে ১৫২টি প্রতিমা তৈরি করেছেন। একই পারিশ্রমিকে স্থানীয় ভাস্কর অভিলাষ মণ্ডল কালার বটতলা মন্দিরে গড়েছেন ২০১টি প্রতিমা।
সাহাপাড়া মন্দিরে দুর্গার ৯টি রূপ, রক্তবীজ, রাম-সীতা, শিব, সরস্বতী, শ্রীকৃষ্ণ ও বড় হনুমানের মূর্তি রয়েছে। অন্যদিকে কালার বটতলায় ভীষ্মের প্রতি শ্রীকৃষ্ণের অস্ত্র ধারণ, দক্ষযজ্ঞ, রাজা হরিশচন্দ্রের শ্মশানঘাট, ভগীরথের গঙ্গা আনয়ন, বকাসুর বধ ও সীতা উদ্ধারের মতো পৌরাণিক ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।
কালার বটলা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত সরকার বললেন, ‘এটিকে প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখার কিছু নেই। কাছাকাছি দুটি মন্দিরে এত প্রতিমা তৈরি হওয়ায় দর্শনার্থীরা আসবেন, আনন্দ পাবেন।’ তবে শতবর্ষী মন্দিরটির উন্নয়নে সরকারি সহায়তা না পাওয়ার আক্ষেপ জানালেন তিনি।
সাহাপাড়া মন্দির কমিটির সভাপতি অধ্যাপক কার্তিক চন্দ্র সাহা জানিয়েছেন, স্থানীয় পূজারিদের অনুদানে ৫২ বছর ধরে তাদের মন্দিরে পূজা হচ্ছে। মানুষের আনন্দই তাদের বড় প্রাপ্তি।
ডুমুরিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি টুটুল কুণ্ডু জানিয়েছেন, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে এ বছর ২২৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার জানিয়েছেন, উৎসব শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে।



