উপহারে রত্নার ১ ঘণ্টা হয়ে গেল ১০ মিনিট

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রত্না বিশ্বাস। ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। প্রতিদিন ভোরে বইয়ের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ৪ কিলোমিটার পথ হেঁটে স্কুলে যেতে হতো তাকে। রাজমিস্ত্রি বাবার সামান্য আয়। সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হতো পরিবারকে। সেখানে মেয়ের জন্য একটি সাইকেল কিনে দেওয়া ছিল স্বপ্নের মতো। বাবার আর্থিক সংকটের কারণে দীর্ঘ পথ হেঁটে স্কুলে যেতে গিয়ে প্রায়ই ক্লাসে পৌঁছাতে দেরি হতো রত্নার। কখনো কখনো ক্লান্তিও ভর করত। তবুও থেমে যায়নি তার পড়াশোনা।
সেই কষ্টের পথেই এবার মিলল স্বস্তি। উপহার হিসেবে একটি নতুন বাইসাইকেল পেয়েছে রত্না। এখন আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটতে হবে না। মাত্র ১০ মিনিটেই পৌঁছে যেতে পারবে স্কুলে। নতুন এই সাইকেল শুধু তার যাতায়াত সহজ করেনি, ভবিষ্যতের স্বপ্নকেও যেন আরও কাছে এনে দিয়েছে।
আমার বাবা খুবই কষ্ট করে সংসার চালান। সাইকেল কেনা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। প্রতিদিন ৪ কিলোমিটার পথ হেঁটে স্কুলে যেতে হয়। প্রায়ই ক্লাসে পৌঁছাতে দেরি হয়। মাঝেমধ্যে মনে হতো, এভাবে চলতে থাকলে হয়তো কয়েক ক্লাস পরেই পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে
রাজশাহীর পবা উপজেলার খ্রিষ্টানপাড়া এলাকায় রত্নার বাড়ি। পড়ছে ইউসেফ রাজশাহী টেকনিক্যাল স্কুলে। অভাবের সংসারে একটি সাইকেল ছিল অনেক বড় স্বপ্ন।
গত ৩ জুলাই পবা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সরকারের পক্ষ থেকে রত্নার হাতে একটি বাইসাইকেল তুলে দেওয়া হয়।
নতুন সাইকেল হাতে পেয়ে আনন্দে উচ্ছ্বসিত রত্না। অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছে না সে। কিছুটা আবেগাপ্লুত হয়ে বলল, ‘আমার বাবা খুবই কষ্ট করে সংসার চালান। সাইকেল কেনা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। প্রতিদিন ৪ কিলোমিটার পথ হেঁটে স্কুলে যেতে হয়। প্রায়ই ক্লাসে পৌঁছাতে দেরি হয়। মাঝেমধ্যে মনে হতো, এভাবে চলতে থাকলে হয়তো কয়েক ক্লাস পরেই পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে। এখন সাইকেলে খুব অল্প সময়েই স্কুলে যেতে পারব।’
উপহারটিকে বড় দায়িত্ব হিসেবেই নিয়েছে রত্না। সে বলল, ‘এখন আরও মন দিয়ে পড়াশোনা পারব। বড় হয়ে নার্স হতে চাই। অসহায় মানুষের সেবা করতে চাই। এই উপহার আমার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ সহজ করে দেবে।’
রত্নার উপহার পাওয়ায় খুশি তার শিক্ষকরাও। ছাত্রীর অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কষ্টের কথাও তুলে ধরেন শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস। তিনি বললেন, ‘রত্না একজন মেধাবী ও পরিশ্রমী ছাত্রী। কিন্তু প্রতিদিন দীর্ঘ পথ হেঁটে স্কুলে আসা-যাওয়া তার জন্য খুবই কষ্টকর ছিল। সাইকেল পাওয়ার পর তার আনন্দ দেখে শিক্ষক হিসেবেও ভালো লাগছে। এমন সহায়তা দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও উৎসাহ জোগাবে।’
নতুন সাইকেলের চাবি হাতে পেয়ে আনন্দ লুকাতে পারেনি রত্না। ‘আমার বাবা একজন রাজমিস্ত্রি। আমরা খুবই গরিব। বাবার পক্ষে আমাকে সাইকেল কিনে দেওয়া সম্ভব ছিল না।’
শুধু রত্নাই নয়, একই অনুষ্ঠানে কশবা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইমন টুডুও পেয়েছে নতুন বাইসাইকেল। সেও দীর্ঘদিন পায়ে হেঁটে স্কুলে যেত। দরিদ্র পরিবারের হওয়ায় তার পক্ষেও সাইকেল কেনা সম্ভব হয়নি। অনুষ্ঠানে দরিদ্র পরিবারের ১৮ শিক্ষার্থীর হাতে নতুন সাইকেল তুলে দেওয়া হয়।
পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন বললেন, সরকারের এমন উদ্যোগ শুধু তাৎক্ষণিক সহযোগিতা নয়; এটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পথও সুগম করবে।
‘এমন উদ্যোগ চলমান থাকলে যাতায়াত ভোগান্তির কারণে দরিদ্র পারিবারের কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে না’— উল্লেখ করেন ইউএনও ইবনুল আবেদীন।





