সংবাদ সম্মেলন
সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: সুষ্ঠু বিচার দাবি সন্তানদের

ছবি: আগামীর সময়
সিলেট নগরের রায়নগরে আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগম হত্যার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন নিহত দম্পতির সন্তানরা।
এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সংবাদ সম্মেলন করে তারা বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসে তারা এখন সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় নগরের জল্লারপার ৪১ খান হাউসে সংবাদ সম্মেলনে করেন আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগমের মেয়ে সেলিনা সুলতানা শিখা ও তারানা সুলতানা শিমু।
সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেছেন, ‘আমাদের দাবি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও সঠিক বিচার।’
গত মঙ্গলবার তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। মন্ত্রী তাদের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান।
নিহত দম্পতির সন্তানরা বলেছেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হবে এবং তারা ন্যায়বিচার পাবেন বলে তারা আশাবাদী।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাত্তার-সুরাইয়া দম্পতির মেয়েরা বলেছেন, এজাহারে তারা নির্দিষ্ট করে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেননি। তাদের বাবার একজন আইনজীবীর সঙ্গে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে—এ বিষয়টি তারা শুধু পুলিশের নজরে এনেছেন।
তারা বলেছেন, ওই আইনজীবী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কি না, সেটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বের করা পুলিশের দায়িত্ব। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা ও জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বেরিয়ে আসবে বলে তারা আশা করেন।
তারা আরও বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও যদি তারা সুষ্ঠু বিচার না পান, তাহলে পরবর্তী সময়ে আবারও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সিলেটবাসীকে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন।
গত ১২ আগস্ট সকালে সিলেট নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার নিজ বাসা থেকে আওয়ামী লীগ নেতা ও সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক এম এ সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের (১৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের দিনই পুলিশ বাবুল মিয়া নামে এক রংমিস্ত্রিকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন পর, ১৭ আগস্ট নিহত দম্পতির প্রবাসী ছেলে-মেয়েরা তাদের বাসায় প্রথমবার সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তারা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
একই সঙ্গে পুলিশের তদন্তে সন্তুষ্ট না হলে মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তরের দাবিও জানিয়েছিলেন তারা।








