সেতুর অপেক্ষায় শরীয়তপুর ও বরিশালের লাখো মানুষ

ছবি: আগামীর সময়
শরীয়তপুর ও বরিশাল জেলার সীমান্তঘেঁষা জয়ন্তী নদীর দুই পাড়ে চওড়া পাকা সড়ক থাকলেও নদীর ওপর কোনো সেতু নেই। ফলে বরিশালের মুলাদী, হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ এবং শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার কয়েক লাখ মানুষকে প্রতিদিন ঝুঁকি ও বাড়তি খরচে ট্রলার বা নৌকায় নদী পার হতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
দুই পাড়ে সড়ক থাকার পরও সেতু না থাকায় এর সুফল পুরোপুরি পাচ্ছেন না চার উপজেলার মানুষরা। বর্ষা ও বৈরী আবহাওয়ায় নদী পারাপারে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। রোগী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিদেশফেরত যাত্রীদেরও প্রতিদিন এ পথ ব্যবহার করতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মুলাদী, হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জের দেড় থেকে দুই হাজার মানুষ প্রতিদিন ঢাকায় যাতায়াতের জন্য ট্রলারে জয়ন্তী নদী পার হয়ে গোসাইরহাটে আসেন। এরপর শরীয়তপুর হয়ে বাসে ঢাকার পথে রওনা হন।
বর্তমানে মাদারীপুর হয়ে শরীয়তপুর থেকে বরিশালের দূরত্ব প্রায় ৮৭ কিলোমিটার। জয়ন্তী নদীর ওপর সেতু নির্মাণ হলে আবুপুরা হয়ে এই দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার কমে ৭৭ কিলোমিটারে দাঁড়াবে। একইভাবে পদ্মা সেতু ও ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে বরিশাল শহরের দূরত্ব প্রায় ১৮২ কিলোমিটার। মুলাদী-গোসাইরহাট পথে সেতু হলে ঢাকার সঙ্গে দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার কমে ১৪৭ কিলোমিটারে নেমে আসবে।
২০১৫ সালে আবুপুরা-মৃধারহাট নৌপথে ফেরি চলাচল শুরু হয়েছিল। তখন দুই প্রান্তে সরাসরি বাস চলাচলও শুরু হয়। তবে দুই বছরের মাথায় ফেরি সার্ভিস বন্ধ হয়ে গেলে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ট্রলারই হয়ে ওঠে পারাপারের প্রধান ভরসা।
মুলাদী ও গোসাইরহাটের কৃষকরা জানিয়েছেন, পরিবহনব্যবস্থা সহজ না হওয়ায় অনেক সময় উৎপাদিত সবজি ও অন্যান্য ফসল স্থানীয় বাজারে কম দামে বিক্রি করতে হয়।
মুলাদীর ভেদুরিয়া এলাকার কৃষক আব্দুর রহমান বলেছেন, ‘যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় জমিতে উৎপাদিত সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য কম দামে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে হয়। সেতু নির্মাণ করা হলে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে। তখন ঢাকার বাজারে পণ্য বিক্রি করে বেশি লাভ করা সম্ভব হবে।’
এলজিইডির মুলাদী উপজেলা প্রকৌশলী মো. জিয়াউল হক বলেছেন, ‘ছোট একটি সেতুর অভাবে বরিশালের তিনটি উপজেলা ও শরীয়তপুরের একটি উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন। জয়ন্তী নদীতে সেতু নির্মাণের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। প্রকল্প প্রস্তাবটি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। সেখান থেকে অনুমোদন পেলে এটি একনেকে উপস্থাপন করা হবে।’



