এমপি নজরুলের নতুন ভিডিও ভাইরাল, বিতর্কে নতুন প্রশ্ন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। সামাজিক মাধ্যমে এবার তার সঙ্গে এক নারীর হোটেলে প্রবেশের নতুন একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর আবারও শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। তবে ভিডিওতে থাকা নারী তার দাবি করা দ্বিতীয় স্ত্রী কিনা কিংবা ভিডিওটি বিয়ের আগে নাকি পরে ধারণ করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গাজী নজরুল ইসলাম এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে একটি হোটেলে প্রবেশ করছেন। এ সময় হোটেলের রিসেপশনে দায়িত্বরত এক ব্যক্তির সঙ্গে করমর্দন করে তারা ভেতরে যান। ভিডিওর আরেক অংশে হোটেলের লবিতে ওই নারীর সঙ্গে তাকে ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলতে দেখা যায়।
তবে ভিডিওতে থাকা নারী তার দাবি করা দ্বিতীয় স্ত্রী কিনা, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে গাজী নজরুল ইসলাম বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত ২০ জুলাই সামাজিক মাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামকে এক নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায় বলে দাবি করে আরেকটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
পরে লিখিত এক বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তিনি জানান, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী মোসাম্মৎ মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী এবং গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর মগবাজারের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান এবং সেখানে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।
এ ঘটনার জেরে বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভায় গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাংগঠনিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট খাইরুল বদিউজ্জামান বলেছেন, দেশের প্রচলিত আইনে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী যে কোনো নারী নিজের ইচ্ছায় যে কোনো বয়সের প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে বিয়ে করতে পারেন। তবে নারী যদি ১৮ বছরের কম বয়সী হন, তাহলে সেটি আইনগতভাবে অপরাধ।
তিনি বলেছেন, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি বিয়ের আগে নাকি পরে ধারণ করা হয়েছে, সেটি এখনো যাচাই হয়নি। তাই কেবল ভিডিও দেখে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
ভিডিও ধারণের আইনগত দিক তুলে ধরে এই আইনজীবী বলেছেন, দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ ব্যক্তিগতভাবে কোথাও একত্রে অবস্থান করলে তাদের গোপনে ভিডিও ধারণ বা তা ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টিও আইনগত প্রশ্নের জন্ম দেয়। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে এ ধরনের কর্মকাণ্ডও আইনের আওতায় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এদিকে নতুন ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের আলোচনা চললেও ভিডিওতে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে থাকা নারীর পরিচয় এবং ভিডিও ধারণের সময়-পরিস্থিতি সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে জনমনে তৈরি হওয়া নানা প্রশ্ন।





