ফরিদপুরের নগরকান্দা
নদী নেই তবু সেতু

চারপাশে সারি সারি ঘরবাড়ি আর ফসলি জমি। নেই কোনো নদী, নেই খাল-বিল কিংবা ন্যূনতম পানির প্রবাহ। এক পাশে ছোট্ট একটি ডোবা থাকলেও তার ওপর মস্ত বড় সেতু নির্মাণের কর্মযজ্ঞ। কোনো জলাশয় ছাড়া শুধু ডাঙার ওপর এমন সেতু তৈরির দৃশ্য দেখে রীতিমতো তাজ্জব স্থানীয়রা। ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় ঠিকাদারদের হাত ধরে এমনই এক সেতুর নির্মাণ করছে সড়ক বিভাগ।
সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে গোয়ালন্দ-তাড়াইল আঞ্চলিক সড়কের কালিখোলা এলাকায়। ৪৪ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩২ মিটার চওড়া এই সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ কোটি। স্থানীয় সরকার বিভাগের অর্থায়নে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করছে সড়ক বিভাগ। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে সেতুর পাইলিংয়ের কাজ। মাঠপর্যায়ে কাজটি করছে অবরন ট্রেডার্স লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, যার স্বত্বাধিকারী মো. মাজেদ শেখ।
একসময় এখানে ভুবনেশ্বর নদী থেকে আসা ‘গোপালপুর শাখা খাল’ নামে একটি বহমান খাল ছিল। সে সময় খালের ওপর পারাপারের জন্য এলজিইডি থেকে ৩৬ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রস্থের একটি ছোট সেতু তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে খালের দুই পাশেই গড়ে উঠেছে বাড়িঘর। বর্তমানে সেই খালের কোনো অস্তিত্বই আর অবশিষ্ট নেই।
সেতু নির্মাণাধীন এলাকায় দায়িত্ব থাকা সাইট ইঞ্জিনিয়ার বাবু হোসেন ৪৪ মিটারের সেতুটি নির্মাণের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও, কেন এখানে অপ্রয়োজনীয় এই সেতু করা হচ্ছে, তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নদী-নালা কিংবা খাল না থাকা সত্ত্বেও কেন এই সেতু তৈরি হচ্ছে— এমন প্রশ্নের জবাবে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছেন ওই অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা ফরিদপুর সড়ক বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) মো. জাহাঙ্গীর। সরকারি নিয়মের দোহাই দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আগে থেকেই এই স্থানে ছিল সেতু। আমরা সেই অনুযায়ী প্রতিবেদন তৈরি করে ঢাকায় পাঠানোর পর প্রকল্প পাস হয়ে আসে। যেহেতু নথিপত্রে আগে এখানে সেতু ছিল, তাই আমাদের নতুন প্রতিবেদনেও পাঠাতে হবে সেতু তুলে ধরেই। ওই স্থানে এখন সেতুর কোনো প্রয়োজন নেই— এটা আমরা ফাইলে লিখতে পারি না।’




