জমি নিয়ে বিরোধে মা-ছেলেকে মারধর, বসতঘর ভাঙচুরের অভিযোগ

মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন জরিনা বেগম। ছবি: আগামীর সময়
মাদারীপুরের শিবচরে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধা ও তার ছেলেকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তাদের বসতঘর ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে।
গত ২১ আগস্ট রাতে উপজেলার মানিকপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় নিরাপত্তা ও প্রতিকার চেয়ে পরিবারটির পক্ষ থেকে আদালতে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। আদালত অভিযোগটি তদন্তের জন্য শিবচর থানায় পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত শুক্রবার গণমাধ্যমকর্মী ও প্রশাসনের কাছে অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরেন জরিনা। তিনি জানান, তার স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় জমি কিনে এই বসতবাড়ি নির্মাণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই বাড়িতে বসবাস করছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর তার কবরও ওই জমিতে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেছেন, ‘আমি একজন বয়স্ক মানুষ। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে এখানে থাকি। আমার অন্য ছেলেরা ঢাকায় চাকরি করে। এই সুযোগে আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
জরিনা বেগমের মেয়ে হোসনে আরা বেগম আদালতে দেওয়া অভিযোগে আটজনের নাম উল্লেখ করেছেন। তারা হলেন, সেকান্দার ব্যাপারী (৫০), এসকান্দার ব্যাপারী (৪৫), বেলায়েত তালী (২০), নাদিম তালী (২০), ইদ্রিস তালী (৫৫), নূর ইসলাম তালী (৩০), আনোয়ারা বেগম (৫৫) ও ফাতেমা বেগম (৪৫)।
অভিযোগে বলা হয়েছে, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ২১ আগস্ট রাতে কয়েকজন ব্যক্তি রামদা, ছেনদা ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় জরিনাকে গালিগালাজ করা হয়। প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হয় এবং হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়।
মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে ঠান্ডু মিয়াকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা এবং পরে লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করার অভিযোগও করা হয়েছে। ওই ঘটনায় মা ও ছেলে আহত হন। তাদের শরীরে এখনো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলার সময় বসতঘরের টিনের বেড়া ও চাল ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে পরিবার।
এর পরদিন ২২ আগস্ট মধ্যরাত ১টার দিকে বসতঘরের চারপাশে পেট্রল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, তারা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি আইনগতভাবে নিষ্পত্তি চান তারা। একই সঙ্গে হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা লিটন মাতুব্বর জানান, জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি মীমাংসার জন্য তারা একাধিকবার চেষ্টা করেছেন। মা ও ছেলেকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
আরেক বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বললেন, ‘বিষয়টি আমরা স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছি। একজন বৃদ্ধ নারী ও তার প্রতিবন্ধী ছেলের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
অভিযুক্ত এসকান্দার ব্যাপারী বলেছেন, ‘আমরা তাদেরকে মারধর করিনি। এসব অভিযোগ মিথ্যা।’
শিবচর থানার ওসি কামাল হোসেন জানিয়েছেন, আদালত থেকে অভিযোগটি আমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









