চাওয়া শুধু একটি হিমাগার

মৌলভীবাজারের অন্যতম প্রধান কৃষিনির্ভর উপজেলা কমলগঞ্জ। কৃষিভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত এ উপজেলায় প্রতি বছর রেকর্ড পরিমাণ উৎপন্ন হয় আলু, টমেটো ও বিভিন্ন মৌসুমি সবজি। কিন্তু সেখানে কোনো হিমাগার না থাকায় চরম হতাশায় ভুগছেন স্থানীয় কৃষকরা। বারবার আশ্বাস আর ফাইলবন্দি প্রস্তাবনার জালে আটকে আছে কৃষকদের এ স্বপ্নের দাবি। এর ফলে নষ্ট হচ্ছে কষ্টের ফসল।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য, কমলগঞ্জের আদমপুর, মাধবপুর, আলীনগর, ইসলামপুর, মুন্সীবাজার, পতনঊষার, সদর, রহিমপুর ইউনিয়নসহ পৌরসভায় বিপুল পরিমাণ সবজি চাষ হয়। তবে হিমাগার না থাকায় ফসল তোলার মৌসুমে ন্যায্যমূল্য পান না কৃষক। বাধ্য হয়ে বিক্রি করতে হয় কম দামে। অন্যদিকে সংরক্ষণের অভাবে মাঠেই পচে যাচ্ছে টনের পর টন ফসল।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২৪ সালে কৃষিমন্ত্রী আব্দুস শহীদকে হিমাগার স্থাপনের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়। সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও হিমাগারের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. ইসরাইল হোসেন। সরকারি পর্যায়ে হিমাগার করার জন্য জায়গা নির্ধারণ ও প্রাথমিক প্রস্তাবনা পাঠাতে নির্দেশ দেন স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাকে।
এদিকে বীজের জন্য আশপাশের উপজেলার ওপর নির্ভর করতে হয় স্থানীয় আলুচাষিদের। হিমাগার থাকলে নিজেদের বীজ সংরক্ষণ করতে পারতেন নিজেরাই। হিমাগার হলে বড় পরিসরে চাষাবাদে আগ্রহী হবেন কৃষকরা, যা পাল্টাতে পারে স্থানীয় অর্থনীতি।
হিমাগারের গুরুত্ব তুলে ধরেন উপজেলা কৃষি অফিসার জয়ন্ত কুমার রায়। বললেন, ‘কমলগঞ্জে টমেটোসহ বিভিন্ন শাকসবজি উৎপাদন হয়। টমেটোসহ শাকসবজি পচনশীল হওয়ায় হিমাগার খুব জরুরি। এ ব্যাপারে সরকারিভাবে প্রস্তাবনা দেওয়া আছে।’
‘উপজেলায় হিমাগার করার বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবগত করা হয়েছে। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন’— বললেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান।






