প্রেমিক যুগলকে মারধর
কিশোরীর ছবি ফেসবুকে দেওয়ায় ওসির বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ

সংগৃহীত ছবি
অপহরণ ও ধর্ষণের ‘ভুক্তভোগী’ কিশোরীর ছবি ফেসবুকে দেওয়ায় লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে কক্সবাজারের চকরিয়া থানার ওসি মনির হোসনের বিরুদ্ধে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এবং কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের কাছে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তাতে ওসির বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
আজ বুধবার (৩ জুন) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ন্যাশনাল ল-ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু এ নোটিশ পাঠান।
তাতে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গেছে যে ধর্ষণের শিকার এক কিশোরীর ছবি চকরিয়া থানার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছে। এ ঘটনায় চকরিয়া থানার ওসি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
নোটিশে আছে, ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার ব্যক্তির ছবি বা পরিচয় শনাক্ত হয় এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করা প্রচলিত আইন, মানবাধিকার নীতি এবং ভুক্তভোগী সুরক্ষা নির্দেশিকার পরিপন্থি। হাইকোর্টও এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের ছবি ও পরিচয় প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
নোটিশে পাঁচ দফা দাবি তোলা হয়েছে। এর মধ্যে আছে— ঘটনার বিষয়ে অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ওসি ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভুক্তভোগীর ছবি ও পরিচয় শনাক্তের সব তথ্য দ্রুত সরানো। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশ সদস্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি এবং নোটিশ পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নেওয়া পদক্ষেপ লিখিতভাবে জানানোর দাবিও আছে এতে।
নোটিশে সতর্ক করে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে।
চকরিয়ায় গত শনিবার প্রেমিকের বাড়ি থেকে মেয়েটিকে উদ্ধারে যায় থানা পুলিশ। মেয়ের বাবার কথা অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে অভিযানে যায় পুলিশ। সেখানে ছেলে ও মেয়েকে মারধর করেন থানার এসআই আরকানুল ইসলাম।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে পরদিন প্রত্যাহার করা হয় এসআইকে। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চলে সমালোচনা। এরপর মেয়েটিকে থানায় এনে ছবি তোলেন ওসি মনির। মারধরের ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে ছবিসহ পোস্ট করেন ফেসবুকে।
‘বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল’- মন্তব্য জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমানের। ‘থানার ফেসবুক পেজে ছবি প্রকাশ করা ঠিক হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ওসির সঙ্গে কথা বলা হবে। তার বিরুদ্ধে আরও কিছু অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোও খতিয়ে দেখা হবে’- বলেছেন তিনি।






