প্রেমিক যুগলকে মারধর
সেই কিশোরীর ছবি ফেসবুকে দিয়ে এবার বিতর্কে চকরিয়ার ওসি

সংগৃহীত ছবি
কিশোরী তার
প্রেমিকের সঙ্গে ছেড়েছে বাড়ি। কিশোরীর বাবা ছেলেটির নামে দিলেন অপহরণ ও ধর্ষণের
অভিযোগ। ছেলের বাড়িতে মেয়েটিকে ‘উদ্ধারে’ যায় পুলিশ। দুজনকেই এসময় মারধর করেন থানার এসআই। সেই ভিডিও ভাইরালের পর প্রত্যাহার করা হয়
তাকে।
ঘটনা এখানেই শেষ নয়। এবার ওই কিশোরীকে থানায় এনে ছবি তোলেন ওসি। মারধরের ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে ওই ছবিসহ ফেসবুকে দেন পোস্ট। মারধরকাণ্ডে এমনিতেই বিতর্কিত থানা পুলিশের ভূমিকা। এবার কিশোরীর ছবি ফেসবুকে দিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়লেন ওসি।
ঘটনাটি কক্সবাজারের চকরিয়া থানার। সোমবার রাতে থানার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ওই কিশোরীর ছবিসহ পোস্টটি প্রকাশ হয়। তাতে দাবি করা হয়, ঘটনার দিন ‘ভিকটিমকে’ উদ্ধারে গেলে পুলিশের উপর হামলা করেন অভিযুক্ত নুরুল আমিন। ভিকটিমকে জিম্মির চেষ্টা করেন তিনি। মেয়েটিকে উদ্ধারে ‘বল প্রয়োগ’ করে পুলিশ। পোস্ট দেয়ার পরপরই শুরু হয় সমালোচনা। কিছুক্ষণের মধ্যেই থানার ফেসবুক পেজ গায়েব।
চকরিয়া থানার একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মারধরকাণ্ড ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের ব্যাখ্যা দিতে ও পুলিশের পক্ষে জনমত গঠনে ওই পোস্ট দিয়েছিলেন ওসি মনির হোসেন। পরে সমালোচনার জেরে পেজটি ডিঅ্যাক্টিভেট করা হয়।
কিশোরীর বাবা বলছেন, ‘আমার মেয়েকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকরা ধর্ষণের আলামত পেয়েছেন বলে আমাকে জানানো হয়। কিন্তু মেয়ের ছবি ফেসবুকে প্রকাশের বিষয়ে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। কোনো অনুমতিও নেওয়া হয়নি।’
এ বিষয়ে জানতে চকরিয়া থানার ওসি মনির হোসেনকে একাধিকবার কল করা হলেও মেলেনি সাড়া।
বাংলাদেশের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নির্যাতন বা ধর্ষণের শিকার কোনো নারী বা শিশুর নাম, ছবি, ঠিকানা কিংবা পরিচয় শনাক্ত হয় এমন তথ্য প্রকাশ করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান মনে
করেন, ‘আইনের রক্ষক হিসেবে একজন ওসির এমন আচরণ অত্যন্ত
দুঃখজনক। এটি সরাসরি আইনের লঙ্ঘন।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরীরও এই মত। তিনি বলেছেন, ‘সাধারণ মানুষ কিংবা প্রশাসনের কর্মকর্তা— সবার ক্ষেত্রেই এই আইন সমানভাবে প্রযোজ্য। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ওসিকে অবিলম্বে অপসারণ এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
‘বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল’- মন্তব্য জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমানের। ‘থানার ফেসবুক পেজে ছবি প্রকাশ করা ঠিক হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ওসির সঙ্গে কথা বলা হবে। তার বিরুদ্ধে আরও কিছু অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোও খতিয়ে দেখা হবে’- যোগ করলেন তিনি।





