বক্তব্য প্রচার নিষিদ্ধ গণতন্ত্র হয় কী করে: রুমিন ফারহানা

সরাইলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির আয়োজনে এমপি রুমিন ফারহানা। ছবি: আগামীর সময়
প্রত্যেক মানুষের হাতের মুঠোয় গণমাধ্যম। যিনি যা চাইবেন, শুনতে পারবেন। কারও বক্তব্য প্রচার আজকাল বন্ধ রাখা যায় না। চব্বিশের অভ্যুত্থানে পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করেছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
আজ বুধবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে এক সভায় মন্তব্যটি করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের এই সংসদ সদস্য। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয় এই সভা।
আয়োজন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে রুমিন ফারহানা বলেছেন, ‘গণমাধ্যম কেবল ২৬টি চ্যানেল নয়। আজকাল প্রত্যেকের হাতেই গণমাধ্যম আছে। যে যা শুনতে চায়, তারা শুনতে পারবে। এভাবে কারও বক্তব্য প্রচার বন্ধ রাখা যায় না। আমরা শেখ হাসিনার আমলে দেখেছি তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার নিষিদ্ধ ছিল। কোর্টের আদেশ দিয়ে নিষিদ্ধ ছিল। সেটা যদি গণতন্ত্র না হয়, তাহলে এটাই বা কী করে গণতন্ত্র হয়?’
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গেও কথা বলেন সাবেক এই বিএনপি নেত্রী।
‘উনি (শেখ হাসিনা) বাংলাদেশের নাগরিক। ওনার পরিবার এবং ওনার বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অবদান আছে। ওনার পরিবারকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সংগ্রামে তখন আওয়ামী লীগ ছিল একমাত্র দল... ওনার বয়সও হয়েছে। বাংলাদেশে যদি ফিরে না আসেন, ওনার দলের অবস্থা কী দাঁড়াবে বা ওনার এতদিনের যে রাজনৈতিক ইতিহাস- সেটারই বা কী দাঁড়াবে? সব কিছু বিবেচনায় আমার কমনসেন্স বলে উনি ফিরে আসবে’- মনে করেন এমপি।
সম্প্রতি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের বিষয়ে রুমিন ফারহানার কথা, ‘এটা দেশের আইনশৃঙ্খলার যে নাজুক পরিস্থিতি- সেটাই ইঙ্গিত করে। দলগুলোর যে তাদের ছাত্রসংগঠনের ওপর কোনোরকম নিয়ন্ত্রণ নেই এবং দিনশেষে আবারও যে আমরা পুরনো রাজনীতিতেই ফিরে যাচ্ছি, সেটিই ইঙ্গিত করে।’
রুমিন ফারহানাকে প্রধান অতিথি করায় উপজেলা প্রশাসনের এই অনুষ্ঠান বয়কট করেছে স্থানীয় বিএনপি। ‘বিএনপিকে তো মানতে হবে মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে এমপি বানিয়েছে। এই কঠিন সত্যটা বিএনপিকে মেনে নিতে হবে’- বললেন স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করায় বিএনপি থেকে বহিষ্কার এই নেত্রী।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির এনাম খাঁ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন ও সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।






