চিফ প্রসিকিউটর
বিদ্বেষমূলক নয়, শেখ হাসিনার এমন বক্তব্য প্রচারে বাধা নেই

সংগৃহীত ছবি
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছাড়া অন্য বক্তব্য প্রচার করতে আইনি কোনো বাধা নেই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে যে বক্তব্য দেবেন সেটি প্রচার করা যাবে কি-না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার বিদ্বেষমূলক বক্তব্য আপনারা প্রচার করবেন না। বাকি বক্তব্য প্রচার করতে আইনগত বাধা কোথায়?’
পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আপিল করলে আইনগত অধিকার হিসেবে তা সরাসরি আপিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয়। তবে কোনো পলাতক আসামির আপিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়ে যাবে— এমন বিধান আইনে নেই। পলাতক অবস্থায় আইনের বিশেষ সুবিধা পাওয়ার সুযোগও নেই।’
শেখ হাসিনার রায় কার্যকর প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর জানান, তিনি (শেখ হাসিনা) দেশে ফিরলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি আপিল করার সুযোগ পেলে আপিল নিষ্পত্তির পর রায় বাস্তবায়ন হবে, আর আইনগতভাবে আপিলের সুযোগ না থাকলে সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তিনি দেশে না ফেরা পর্যন্ত এ বিষয়ে আলোচনা অর্থহীন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকাজ স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই এগোচ্ছে বলে মনে করেন চিফ প্রসিকিউটর। গত এক থেকে দেড় বছরে ছয়টি মামলার বিচার শেষ হয়েছে, যা অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এরচেয়ে দ্রুত বিচার হলে সেই বিচার নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি জানান, চলতি মাসেই আরও তিনটি মামলার রায় হতে পারে। এর মধ্যে সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের মামলায় যুক্তিতর্কের শুনানি চলছে। মাহবুবুল আলম হানিফের মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে এবং যেকোনো দিন রায় হতে পারে। এছাড়া যাত্রাবাড়ীতে হত্যাকাণ্ডের মামলায়ও শিগগিরই যুক্তিতর্ক শুরু হবে। সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের মামলাসহ আরও কয়েকটি মামলা বিচারকার্যের শেষ পর্যায়ে।
মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলনে নিহত, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের ঘটনাগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তদন্ত দ্রুত শেষ করে আগামী এক বছরের মধ্যে জুলাই-সংশ্লিষ্ট সব মামলার বিচার শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। একই সঙ্গে সারা দেশে সংঘটিত তিন হাজারেরও বেশি কথিত ক্রসফায়ার ও গুমের ঘটনাও তদন্তাধীন। কক্সবাজারের কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা এবং শাপলা চত্বরের ঘটনাসহ একাধিক মামলার বিচার শুরু হয়েছে। গুম ও ক্রসফায়ারের ১২টি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যে হাতে এসেছে এবং পর্যায়ক্রমে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হচ্ছে।
তার ভাষ্য, যেসব মামলায় দণ্ডিতদের অর্থদণ্ড বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ রয়েছে, সেগুলো কার্যকর করার প্রক্রিয়াও শুরু করা হবে। পলাতক আসামির ক্ষেত্রে কীভাবে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে দেশীয় আইন ও আন্তর্জাতিক বিধান পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কেবল এখতিয়ারভুক্ত মামলারই বিচার হওয়া উচিত জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, যেসব মামলার বিচার নিম্ন আদালতে হওয়া উচিত, সেগুলো সেখানে পাঠানো হবে। তবে কোন মামলা ট্রাইব্যুনালের এবং কোনটি সাধারণ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত— এটি নির্ধারণ অত্যন্ত জটিল বিষয়। এ ক্ষেত্রে স্বাধীন তদন্ত ও প্রসিকিউশনের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।




