প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সালিশে জুতাপেটা

পাবনায় নারীকে ধর্ষণচেষ্টার সালিশে জুতাপেটা করা হচ্ছে অভিযুক্তকে। ছবি: আগামীর সময়
মেয়েকে ঘরে রেখে পাশেই ছেলের বাড়িতে গিয়েছিলেন তার মা। সে সুযোগে ঘরে ঢুকে বাক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারীটিকে (৩০) ধর্ষণের চেষ্টা করেন এলাকার মহব্বত আলী নামে এক ব্যক্তি। চিৎকার শুনে মা ফিরে এলে পালিয়ে যান তিনি।
ঘটনাটি পাবনার সাঁথিয়ার গৌরীগ্রাম ইউনিয়নে। মহব্বত আলীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠে গত বুধবার দুপুরে। স্থানীয়রা জানালেন, এর বিচারে গতকাল রবিবার গ্রামে বসে সালিশ। সন্ধ্যায় ডাকা ওই বৈঠকে অপরাধ স্বীকার করেন মহব্বত। সাজা হিসেবে তাকে ২০ বার জুতাপেটা করে দফারফা হয় ঘটনাটির।
পুলিশকে না জানিয়ে সালিশ বৈঠকে এমন গুরুতর অপরাধ মীমাংসার সমালোচনা করেন স্থানীয়রা। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব, ইউপি সদস্য মো. মিল্টন, আরশেদ আলী ও মালেক মেম্বারসহ গ্রামের মাতব্বররা এই সালিশের আয়োজন ও বিচার করেন। তারাই নিশ্চিত করেছেন এসব।
ভুক্তভোগী নারীর আত্মীয়ের কথা, ‘মহব্বত এর আগেও দুই জায়গায় একই অপরাধ করেছে। আমার শ্যালিকার ঘটনায় শনিবার সালিশে বসার কথা থাকলেও সে আসেনি... একজন অসহায় প্রতিবন্ধী নারীর ধর্ষণচেষ্টার বিচার কি শুধু ২০টি জুতার বাড়ি? আমি এই অন্যায় রায় না মেনে সালিশ থেকে চলে এসেছি। আমাদের থানায় যেতে এখনো বাধা দেওয়া হচ্ছে। আমরা কোনো টাকা-পয়সা চাই না, অন্যায়ের সঠিক বিচার চাই। সবার সঙ্গে আলোচনা করে আমরা আইনের দ্বারস্থ হব।’
সালিশে থাকা ইউপি সদস্য আরশেদ আলী বললেন, ‘আমি এই আইন জানি না। ওটা আমার ওয়ার্ডও না। চেয়ারম্যান সাহেব ডাকছিলেন, তাই গিয়েছিলাম। চেয়ারম্যান সাহেব সবকিছু ভালো জানেন।’
ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাবের ভাষ্য, ‘ওই ছেলে অপরাধ স্বীকার করেছে। এই অপরাধ সালিশে বিচার করার আইন যে নেই, তা আমি জানি। কিন্তু দুই পক্ষ বসে সমাধান করতে চেয়েছিল বলেই সালিশটি করা হয়েছে।’
ঘটনা জানার পর প্রতিবন্ধী নারীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা জানিয়েছেন সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। ‘পরিবারটিকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলেই দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না বলেছেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী ধর্ষণ বা ধর্ষণচেষ্টা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এ ধরনের অপরাধের বিচার কোনোভাবেই গ্রাম্য সালিশে করার সুযোগ নেই। আইন অমান্য করে চেয়ারম্যান ও অন্যরা কেন এটি করলেন, তা জানতে চেয়ারম্যানকে ডাকা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’






