শিশু ধর্ষণচেষ্টায় সালিশ, সাজায় চড় ও জরিমানা

শরীয়তপুরে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ মিটমাটে ডাকা সালিশ বৈঠক। ছবি: আগামীর সময়
শিশু ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্তকে নিয়ে ডাকা হয়েছে সালিশ। ৫০ হাজার টাকা ও চড়-থাপ্পড়ে হয়েছে মিটমাট। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। গুরুতর অপরাধের বিচার হতে হবে প্রচলিত আইনে- বলছেন তারা।
এ ঘটনা শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাঁচিকাটা ইউনিয়নের পশ্চিম মনাই হাওলাদার কান্দি গ্রামের। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় দুলারচর নতুন বাজারের কাছে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে হয় সালিশ বৈঠক। পরিচালনা করেন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি নাছির হাওলাদার। তিনিই নিশ্চিত করেছে ঘটনাটি।
তার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত শুক্রবার চরভাগা ইউনিয়নের কাজী কান্দি গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যায় শিশুটি। সে স্থানীয় স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। ওই অনুষ্ঠানে ছিলেন মেয়েটির আত্মীয় কামাল কাজী। তাকে টাকা দেওয়ার কথা বলে ধইঞ্চা ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন কামাল।
শিশুর চিৎকারে আশপাশের লোকজন গিয়ে কামালকে আটক করে। পরদিন সন্ধ্যায় এ নিয়ে ডাকা হয় সালিশ। সেখানে উপস্থিত সবার সামনে অভিযোগ স্বীকার করেন কামাল- জানালেন ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নাছির। সাজা হিসেবে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও চড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
নাছির আরও জানালেন, কামালের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক ২০ হাজার টাকা আদায় হয়েছে। বাকি টাকা আগামী ১০ দিনের মধ্যে শোধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘ভুক্তভোগী পরিবারটি অসহায়। থানায় যাওয়ার মতো অর্থও তাদের ছিল না। তাদের সম্মতিতেই সালিশ করা হয়েছে। জরিমানার টাকা তাদের দেওয়া হয়েছে। যদিও বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে। তারপরেও পরিবারের সম্মতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়’- দাবি ইউপি সদস্য নাছিরের।
স্থানীয়দের অনেকে এই মীমাংসায় ক্ষুব্ধ। রফিকুল ইসলাম নামে একজন বললেন, ‘শিশুর সঙ্গে এমন গুরুতর অভিযোগের বিচার কোনোভাবেই গ্রাম্য সালিশে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। পাশাপাশি যারা আইনগত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে এ ধরনের সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছেন, তাদের বিষয়েও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন ঘটনার ক্ষেত্রে আইনের বাইরে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস না পায়।’
এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি মেয়েটির পরিবার। সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসেন জানালেন, ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে দ্রুত নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা।


