উজিরপুর
এলপিজির ‘বাড়তি বোঝা’

ছবি: আগামীর সময়
সকালে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতে বাজারে এসেছিলেন হারতা ইউনিয়নের নিখিল। ১২ কেজি এলপিজির সরকারি দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। কিন্তু দোকানে গিয়ে সেই সিলিন্ডারের দাম শুনলেন ২ হাজার ১০০ টাকা। অন্য দোকানে খোঁজ নিয়ে কোথাও ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত দাম চাওয়া হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত রান্নার প্রয়োজন মেটাতে বাড়তি টাকা দিয়েই সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে তাকে।
শুধু নিখিল নন, বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে একই চিত্রের কথা জানিয়েছেন ক্রেতারা। সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা বেশি দামে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার কয়েকটি বাজার ঘুরে ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে রান্নার অন্যতম প্রধান এই জ্বালানি কিনতে গিয়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক ব্যয়ের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত দাম অনুযায়ী ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। সেই হিসাবে কোথাও কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে এক হাজার টাকারও বেশি দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
শোলক ইউনিয়নের ধামুরা বন্দর থেকে গ্যাস কিনতে আসা সোহাগ খান বলেন, গ্যাস নিতে এসে দেখি দাম অনেক বেশি। দোকানিরা বলছেন, তারাও বেশি দামে কিনেছেন। কিন্তু ভোক্তা হিসেবে শেষ পর্যন্ত আমাদেরই বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে।
শিকারপুর বাজারের সামিন বলেন, সরকারি দামে গ্যাস পাওয়ার কথা থাকলেও বাজারে এর প্রতিফলন নেই। কয়েকটি দোকানে খোঁজ করেও কম দামে সিলিন্ডার পাননি। প্রয়োজনের কারণে বাধ্য হয়ে বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে।
বিক্রেতাদের কয়েকজনের দাবি, তারা ডিলার বা পরিবেশকের কাছ থেকেই বেশি দামে সিলিন্ডার কিনছেন। এর সঙ্গে পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহসংক্রান্ত সমস্যার কারণে বিক্রয়মূল্য বাড়ছে। তবে ক্রেতাদের প্রশ্ন, দেশে এলপিজির সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকার কথা বলা হলেও খুচরা বাজারে সরকার নির্ধারিত দামে কেন মিলছে না এই জ্বালানি?
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলওএবি) ১ অক্টোবরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দেশে এলপিজির সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে দেশে ১ দশমিক ৫৬ লাখ টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। আগস্টে আমদানির পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ৫৮ লাখ টন। এলওএবি সদস্য কোম্পানি, পরিবেশক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রির নির্দেশ দিয়েছে। বেশি দামে বিক্রি ও নিয়মবহির্ভূতভাবে মজুদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি।
এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর জ্বালানিমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের এলপিজির বাজার পরিস্থিতি মনিটর করার নির্দেশ দেন। কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেও বলা হয়।
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা বলেন, এলপিজি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। বাজারে যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দাম নেওয়া না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত দামের সঙ্গে বাজারদরের এত বড় ব্যবধানের কারণে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ছেন সীমিত আয়ের পরিবারগুলো। তাদের দাবি, উপজেলার বিভিন্ন বাজারে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান চালিয়ে নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করা হোক।





