২৫০ শয্যার হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে সাত শতাধিক রোগী!
- ২০ শয্যায় শতাধিক হাম আক্রান্ত শিশু
- মেঝে-সিঁড়িতে চলছে শিশুদের চিকিৎসা
- ৭৬ চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ২২

২৫০ শয্যার হাসপাতালে রোগী ভর্তি সাত শতাধিক। এর মধ্যে হাম আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন শিশুদের চাপ সবচেয়ে বেশি। প্রতিদিন নতুন করে ভর্তি হচ্ছে শতাধিক রোগী। অথচ হাম ইউনিটে নেই কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ। মাত্র ২০টি শয্যার বিপরীতে শতাধিক শিশুর চিকিৎসা চলছে মেঝে, সিঁড়ি ও চলাচলের পথে। এমন চিত্র হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের।
গত তিন মাসে হাসপাতালটিতে হাম সন্দেহে ভর্তি হয়েছে প্রায় তিন হাজার রোগী। এর মধ্যে ১ হাজার ১৩০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৫৮ জনের। এ রোগে মারা গেছে অন্তঃসত্ত্বা এক নারীসহ ২৮ জন। মৃতদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাম ইউনিটের ২০টি শয্যার প্রায় সব কটিই রোগীতে পূর্ণ। শয্যা না পেয়ে শতাধিক শিশু মেঝে, সিঁড়ি ও চলাচলের রাস্তায় শুয়ে আছে। মায়েরা হাতপাখা দিয়ে সন্তানদের বাতাস করছেন। একটি শয্যা খালি হলেই সেখানে ওঠার অপেক্ষায় রয়েছে অনেকে।
বানিয়াচং উপজেলার হ্যাপী আক্তার নামের এক নারী তার দেড় বছরের শিশুকন্যা শারমিনকে নিয়ে আট দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি। স্ক্যানু ওয়ার্ডে প্রবেশের পথের মেঝেতেই অবস্থান করছেন তিনি। অশ্রুসিক্ত চোখে হ্যাপী বলছিলেন, ‘চার দিনে কয়েকটি শয্যা খালি হয়েছে রোগী সিলেটে যাওয়ার কারণে। কিন্তু আমার আগে আসা লোকজন স্থান পেয়েছেন। আমি কবে পাব জানি না।’
হাসপাতালে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৭৬টি। কর্মরত মাত্র ২২ জন। এর মধ্যে দুজন ছুটি না নিয়েই স্থায়ী হয়েছেন বিদেশে। শিশু বিশেষজ্ঞের দুটি পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। ফলে প্রতিদিন আসা শত শত শিশুর চিকিৎসা দিতে হচ্ছে অন্য বিভাগের চিকিৎসকদের।
চিকিৎসক সংকটের কথা বর্ণনা করছিলেন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর স্বজন সদর উপজেলার উচাইল-শংকরপাশার তুলি চৌধুরী। তার ভাষ্য, ‘দিনে একবার দুপুর ১২টার দিকে চিকিৎসক আসেন। এরপর ২৪ ঘণ্টা নার্সরা থাকেন। ওষুধ লিখে দিলে বাইরে থেকে এনে দিতে হয়। আল্লাহর ওপর ভরসা করে আছি।’
শুধু হাম নয়, ডেঙ্গু চিকিৎসাতেও রয়েছে শয্যা সংকট। জেলায় এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১৮৯ জন। মারা গেছে দুজন। জেলা সদর হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি হচ্ছে ১৭ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী।
হাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে মনে করলে ভুল হবে— এমনটাই মনে করেন হাসপাতালের সুপার আমিনুল হক সরকার। হাম ও ডেঙ্গু চিকিৎসায় সংকটের কথা স্বীকার করে জানালেন, প্রতিদিন শতাধিক রোগী আসছে। কেউ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে, আবার কাউকে রেফার করা হচ্ছে। শয্যা ও চিকিৎসক নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। চারতলা ভবনে আরও অন্তত ২০টি শয্যা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে দ্রুত চিকিৎসক পদায়নের সম্ভাবনা নেই।
সিভিল সার্জন রত্নদ্বীপ বিশ্বাস বলছিলেন, চিকিৎসক ও শয্যা সংকটের মধ্যেই হাম ও ডেঙ্গুর চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। হাসপাতালে আইসিইউও নেই। রোগীর অবস্থা গুরুতর হলে সিলেটে পাঠানো ছাড়া উপায় থাকে না। হাম ও ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া বেশিরভাগ রোগীকে সিলেটে পাঠানোর পর সেখানে মৃত্যু হয়েছে।



