ফেসবুকে ‘উড়াল দেব আকাশে’ লিখেই নিখোঁজ যুবক

সংগৃহীত ছবি
ফেসবুকে ‘উড়াল দেবো আকাশে’ স্ট্যাটাস দেওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন মো. শহিদুল ইসলাম জোমাদ্দার (৩৮)। তিনি পটুয়াখালী সদর উপজেলার শহরসংলগ্ন লোহালিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।
নিখোঁজের ঘটনায় তার মামা মো. সোহরাব হোসেন পটুয়াখালী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে পটুয়াখালী-লোহালিয়া সেতুর ঢাল এলাকায় তাকে সর্বশেষ দেখা যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান। পুলিশ জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে খোঁজার চেষ্টা চলছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজ শহিদুল মৃত রোশন আলী জোমাদ্দারের ছেলে। তিনি ছয় মাস আগে বিয়ে করেন। তবে এখনও নববধূকে নিজ বাড়িতে তোলা হয়নি। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় শহরের সবুজবাগ এলাকার শ্বশুর বাড়িতে স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে দেখা করে বাসায় ফেরেন। ফেরার সময় তিনি মায়ের জন্য ওষুধ, হলুদ ও মরিচের গুঁড়া নিয়ে আসেন।
শহিদুলের চাচাত ভাই মো. আরিফ হোসেন জানান, বাসায় এসে তিনি পরিচিত মোটরসাইকেল চালক বাবুকে ফোন করে ডেকে আনেন। এরপর নিজের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন চার্জে লাগিয়ে রাখেন। পরিবারের ধারণা, ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার পরই তিনি ফোনগুলো চার্জে রেখে বের হন।
পরে মোটরসাইকেলচালক বাবুর সঙ্গে কথা বলে পরিবার নিশ্চিত হয়, শহিদুল রাত সাড়ে ৭টার দিকে লোহালিয়া সেতুর ঢালে নেমে তাকে ১০০ টাকা ভাড়া দিয়ে বিদায় দেন। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
শহিদুলের মামা সোহরাব হোসেন উল্লেখ করেন, সর্বশেষ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন এবং এলাকায় তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল। পারিবারিক জীবনেও কোনো সমস্যা ছিল না। ঘটনার দিনও শ্বশুরবাড়ির সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলে আসেন।
তবে পুলিশের ধারণা, তিনি স্বেচ্ছায় কোথাও চলে যেতে পারেন অথবা পারিবারিক কোনো বিষয় জড়িত থাকতে পারে। যদিও এ ধরনের ধারণা মানতে নারাজ পরিবার। তাদের দাবি, শহিদুল ভদ্র ও নম্র স্বভাবের মানুষ ছিলেন এবং এভাবে নিখোঁজ হওয়ার কোনো কারণ নেই।




