ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে ‘বিতর্কিত নিয়োগ’, ইউএনও কার্যালয়ে উত্তেজনা

কুমারখালীর ইউএনও কার্যায়ের প্রবেশপথে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি। ছবি: আগামীর সময়
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি ২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে আওয়ামী লীগের লোকজনকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতারের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় ছাত্রদল। এতে যোগ দেয় ‘কুমারখালী পতিত স্বৈরাচার বিরোধী নাগরিক সমাজ’ ও ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতা’ নামের সংগঠন।
বিক্ষোভে ইউএনওর কুশপুতুল দাহ ও কার্যালয় ঘেরাও করা হয়। পুলিশের সঙ্গে ঘটে হাতাহাতির ঘটনাও।
সকাল থেকেই ইউএনও কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন কয়েকশ নেতাকর্মী। পুলিশও ছিল সতর্ক অবস্থানে। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা ইউএনওর কার্যালয়ের প্রধান গেট খুলে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের প্রায় ১০ মিনিট ধরে ধস্তাধস্তি হয়। পরে কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন তারা।
আন্দোলনকারীরা জানান, ৫ আগস্টের পর ‘স্বৈরাচারের দোসরদের’ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্র চলছে। তারই অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতার সাবেক মুখপাত্র আশরাফুল ইসলাম তিহা বললেন, ‘প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে খুঁজে খুঁজে আওয়ামী লীগের লোকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কুমারখালীর মানুষ এই বিতর্কিত ইউএনওকে আর দেখতে চায় না।’
উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আবু কাউসার অপুর অভিযোগ, ছাত্রদলের যোগ্য নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে প্রায় ৫০ জন আওয়ামী লীগ ও জামায়াতঘেঁষা ব্যক্তিকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
‘ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে হটাতে পেরেছি, সেখানে আপনি (ইউএনও) কিছুই নন। অবিলম্বে কুমারখালী ত্যাগ করুন, অন্যথায় কঠোর থেকে কঠোরতর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে’- ঘোষণা দেন কুমারখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হৃদয় হোসেন।
দুপুর পৌনে ১টার দিকে অবরুদ্ধ অবস্থায় কার্যালয়ের দোতলার বারান্দা থেকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন ইউএনও ফারজানা। তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে আমাদের সহায়তা করুন, আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
উচ্ছেদের পর কার্ডে দখল
০৬ আগস্ট ২০২৬
আন্দোলনকারীরা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউএনওর পদত্যাগ ও অপসারণের আলটিমেটাম দিয়ে উপজেলা চত্বর থেকে সরে যান। দাবি মেনে না নেওয়া হলে সোমবার সকালে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার কথা বললেন বিক্ষোভকারীরা।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কুষ্টিয়ার উপপরিচালক (উপসচিব) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম জানালেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় তিনি কুমারখালীতে যান। তবে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়নি। সরাসরি তার কাছে কেউ অপসারণের দাবি জানাননি।
ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য ইউএনওকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।







