এক ইউএনওর কাঁধে চার দপ্তরের দায়িত্ব

ইউএনও মো. মেহেদী হাসান
সরকারের চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব একাই পালন করছেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান।
উপজেলা প্রশাসন, সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন একসঙ্গে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও জনসেবা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পদোন্নতিজনিত কারণে মাধবপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অন্যত্র বদলি হলে গত ১৬ জুন থেকে ওই পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পান ইউএনও মো. মেহেদী হাসান।
এর আগে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মাধবপুর পৌরসভার মেয়রের পদ শূন্য হওয়ায় তাকে দেওয়া হয় ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দায়িত্বও। ফলে বর্তমানে চারটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
মাধবপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাবুল হোসেন বলেছেন, ‘আগে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে মানুষ সহজেই সেবা পেতেন। এখন ইউএনওকে সব সময় পাওয়া যায় না। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই সেবা পেতে বিলম্ব হচ্ছে।’
ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা রুমান মিয়া জানিয়েছেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) না থাকায় নামজারিসহ বিভিন্ন কাজে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অনেক সময় একটি কাজের জন্য একাধিকবার অফিসে আসতে হচ্ছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধবপুর উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়ক সিরাজুল ইসলাম তানজিলা বলেছেন, একজন কর্মকর্তার পক্ষে একসঙ্গে এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা কঠিন। দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করা হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে এবং জনগণ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভূমি অফিসের এক কর্মচারী জানিয়েছেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদের দায়িত্ব যুক্ত হওয়ার পর ইউএনওর কাজের চাপ অনেক বেড়েছে। নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ শেষ করার পরও তাকে ভূমি অফিসের ফাইল নিষ্পত্তি করতে হয়। অনেক সময় গভীর রাত পর্যন্ত বাসায় বসেও তিনি এ কাজ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, চারটি দপ্তরের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ইউএনওকে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হয়।
এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি সভা, আইনশৃঙ্খলা সভা, উন্নয়ন সমন্বয় সভা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমেও তাকে অংশ নিতে হয়। ফলে সব দপ্তরে সমান গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। যার প্রভাব পড়ছে জনসেবার ওপরও।
এ বিষয়ে ইউএনও মো. মেহেদী হাসানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।





