সেই ওসি প্রত্যাহার, অভিযোগের তদন্ত শুরু

পাথরঘাটা থানার ওসি মো. এনামুল হক
বরগুনার পাথরঘাটা থানার ওসি মো. এনামুল হককে প্রত্যাহার করে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ওঠা অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
আজ শনিবার আগামীর সময়কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বরিশাল রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
তিনি জানান, বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) শাহেদ আহমেদ চৌধুরীকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অ্যাসিড হামলার শিকার হয়ে ফাতিমা জমাদ্দার অর্পা নামের এক নারী গত ২০ মে আদালতের নির্দেশে পাথরঘাটা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তার অভিযোগ, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ৯ মে প্রতিপক্ষের লোকজন তার ওপর অ্যাসিড নিক্ষেপ করে। এতে গুরুতর দগ্ধ হন তিনি।
ফাতিমার অভিযোগ, মামলার প্রধান আসামি বাদশা আকনকে গত বুধবার রাতে গ্রেপ্তার করলেও ঘুষ নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এ বিষয়ে জানতে গত বৃহস্পতিবার সকালে পাথরঘাটা থানায় যাওয়ার উদ্দেশে রওনা হলে পথেই তার ওপর হামলা চালায় বাদশা আকন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ফাতিমার দাবি, থানায় ওসির কক্ষে প্রবেশ করার পর ওসি তাকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘আপনি সেই মাল? ইবলিশ কোথাকার।’ এ ছাড়া তার সঙ্গে অশালীন ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। এতে অপমাণিত হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ওইদিন ঘটনার সময় থানায় উপস্থিত ছিলেন পাথরঘাটার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেত্রী মরিয়ম চৌধুরী জেবু। তিনি বলেছেন, ‘আমার সামনেই ফাতিমাকে কটাক্ষ করেছেন ওসি। একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার মুখে এমন মন্তব্য শুনে আমি এবং উপস্থিত সবাই বিব্রত হয়েছি।’
এ ঘটনার একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ওসি মো. এনামুল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ করেননি তিনি।
বরিশাল রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘কোনো পুলিশ সদস্য ব্যক্তিগতভাবে অনিয়ম করলে তার দায় বাংলাদেশ পুলিশ নেবে না। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন ও বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’





