অ্যাসিড হামলার শিকার নারীকে কটূক্তির অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে

পাথরঘাটা থানার ওসি মো. এনাম। সংগৃহীত ছবি
বরগুনায় অ্যাসিড হামলার শিকার এক নারীকে অপমান ও কটূক্তি করার অভিযোগ উঠেছে পাথরঘাটা থানার ওসি মো. এনামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
ওই নারী ফাতিমা জামাদ্দার অর্পা জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ৯ মে তার ওপর অ্যাসিড নিক্ষেপ করেন প্রতিপক্ষের লোকজন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। এ ঘটনায় গত ২০ মে বরগুনার অ্যাসিড দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন তিনি। আদালতের নির্দেশে পাথরঘাটা থানায় এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত হয় মামলাটি। মামলার প্রধান আসামি বাদশা আকনকে গত বুধবার রাতে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও পরে ঘুষের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ফাতিমার ভাষ্য, এ বিষয়ে জানতে গত বৃহস্পতিবার সকালে পাথরঘাটা থানার উদ্দেশে রওয়ানা হন তিনি। বিষয়টি জানতে পেরে বেলা ১১টার দিকে তাকে মারধর করেন বাদশা। পরে চরদুয়ানী বাজারের একটি ঘরে তাকে আটকে রাখেন।
তিনি জানিয়েছেন, খবর পেয়ে তাকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
ফাতিমার অভিযোগ, ওসির কক্ষে প্রবেশ করার পর তাকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তি করেন ওসি। একই সঙ্গে অশালীন ভাষায় ফাতিমাকে গালিগালাজ করেন তিনি। ওসি তাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘আপনি সেই মাল? ইবলিশ যেন কোথাকার।’ এতে অপমানিত ও বিব্রতবোধ করেন তিনি। এ সময় পাথরঘাটার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির নেত্রী মরিয়ম চৌধুরী জেবু উপস্থিত ছিলেন।
মরিয়ম চৌধুরী জেবু বলেছেন, ‘আমার সামনেই ওসি ফাতিমাকে কটাক্ষ করেছেন। একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার মুখে এমন মন্তব্য শুনে আমি এবং উপস্থিত সবাই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ি।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ওসি মো. এনামের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ করেননি তিনি।
বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) শাহেদ আহমেদ চৌধুরী আগামীর সময়কে উল্লেখ করেন, ফাতিমা ওপর হামলার খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ।
ওসির অসৌজন্যমূলক আচরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




