দুপচাঁচিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
দুই শিক্ষকের দ্বন্দ্ব, অভিভাবকরা ছুটলেন ইউএনও’র কাছে

ছবি: আগামীর সময়
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শীতল কুমার মহন্তের বদলির দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহরুখ খানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবকরা।
আজ রবিবার সকালে তারা ইউএনওর কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এ অভিযোগ দেন।
অভিযোগে শীতল কুমার মহন্তের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করা, প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, শিক্ষার্থীদের প্রহার ও গালিগালাজসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে।
ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবকদের স্বাক্ষরিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, শীতল কুমার মহন্ত কোচিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থেকে বিদ্যালয়ের অভিভাবকদের মধ্যে গ্রুপিং ও লবিং সৃষ্টি করছেন। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। তিনি প্রধান শিক্ষক নূরে আলম ছিদ্দিকীকে অগ্রাহ্য করে তার সঙ্গে কটাক্ষ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষককে ইঙ্গিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর ভাষায় লেখালেখি করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের সুনাম ও শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে প্রধান শিক্ষক কোচিংয়ের সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের বাদ দিয়ে অন্য শিক্ষকদের দিয়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরির দায়িত্ব দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শীতল কুমার প্রধান শিক্ষক ও প্রশ্নপত্র তৈরির কাজে নিয়োজিত এক শিক্ষককে গালিগালাজ করেন। ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সামনেও তিনি প্রধান শিক্ষককে অসভ্য ভাষায় গালিগালাজ ও দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে শীতল কুমার মহন্তকে অন্যত্র বদলির দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
অভিভাবকরা আরও জানান, প্রধান শিক্ষক নূরে আলম ছিদ্দিকী দেশসেরা এই বিদ্যালয় থেকে চলে গেলে শিক্ষার মানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি পিছিয়ে পড়বে। প্রধান শিক্ষক চলে গেলে অধিকাংশ অভিভাবক তাদের সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করতে বাধ্য হবেন বলেও তারা জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহকারী শিক্ষক শীতল কুমার মহন্ত। মুঠোফোনে তিনি বলেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। বরং তাকে মুঠোফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে তাকে দোষী পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধান শিক্ষক নূরে আলম ছিদ্দিকী মুঠোফোনে জানিয়েছেন, সহকারী শিক্ষক শীতল কুমার মহন্তের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তবে বিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষক প্রাইভেট পড়ান, তাদের দিয়ে বিদ্যালয়ের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি না করার সিদ্ধান্ত জানানোর পর থেকেই শীতল কুমার তাকে কটাক্ষ করে অশোভন আচরণ করছেন। ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সামনে তাকে অপমান ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে দাবি করে তিনি বলেছেন, এ কারণে তিনি বিদ্যালয়ে থাকাটা ঠিক হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
দুপচাঁচিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাজমিলুর রহমান জানিয়েছেন, শীতল কুমারের করা সাধারণ ডায়েরির বিষয়টি তদন্তাধীন। হুমকি দেওয়া মুঠোফোন নম্বরটি কার, তা তদন্তে শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরুখ খান লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সহকারী শিক্ষক শীতল কুমার মহন্তের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে উপজেলা শিক্ষা কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








