আলোর প্রকল্পে অন্ধকার

সৌর ল্যাম্পপোস্টগুলোতে এখন বাতি জ্বলছে না। ছবি: আগামীর সময়
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা প্রায় সবগুলো সোলার ল্যাম্পপোস্টই এখন অকেজো। কোনো ল্যাম্পপোস্টে বাতি নেই, কোনোটা থেকে উধাও সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি। আবার কোথাও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও চুরির কারণে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা খুঁটিগুলো এখন উন্নয়ন প্রকল্পের অকার্যকারিতার প্রমাণ। দিনের আলো নিভলেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের।
গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) ও রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির অধীনে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, হাসপাতাল, মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ জনসাধারণের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কয়েক ধাপে এসব সৌরল্যাম্প স্থাপন করা হয়। হাওরাঞ্চলের সড়কে রাতের বেলা আলোর ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা পর্যটকদের নিরাপদ চলাচলের সুবিধার্থে ছিল এ প্রকল্প।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সৌরল্যাম্প স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের তিন বছরের চুক্তি ছিল। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগ থেকেই নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় অনেক বাতি ও যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। পাশাপাশি চুরির কারণে বিভিন্ন স্থানে সোলার প্যানেল, ব্যাটারি ও বাতি উধাও হয়েছে। ফলে একসময় আলোকিত থাকা গ্রামীণ সড়কগুলো আবারও অন্ধকারে ডুবে আছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নিকলী টু করিমগঞ্জ সড়েকের প্রায় শতাধিক ল্যাম্পপোস্টের একটি ল্যাম্পপোস্টও সচল নয়।
উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। বাতি ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ না থাকায় প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত স্থানীয়রা।
বিশেষ করে রাতে সড়কে আলো না থাকায় চলাচলে ভোগান্তির পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও থেকে গেছে উদ্বেগ। পর্যটন এলাকা নিকলীর সড়কে রাতের বেলা পর্যাপ্ত আলো না থাকায় মানুষের চলাচলেও হচ্ছে অসুবিধা।
তবে পুরো উপজেলায় কতটি স্ট্রিট সোলার ল্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল, এর মধ্যে কতটি অকেজো এবং কতটি থেকে যন্ত্রাংশ চুরি হয়েছে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় থেকে। ফলে প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা ও ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট চিত্রও স্পষ্ট নয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী তন্ময় সাহা দুঃখ প্রকাশ করেন, সৌরল্যাম্পগুলো স্থাপনের পর নিয়মিত মেরামত ও সংস্কারের ব্যবস্থা থাকলে মানুষ এর সুফল পেত। কোনো যন্ত্রাংশ নষ্ট হলে দ্রুত পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সরকার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থ ব্যয় করেছে, কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেই উদ্যোগের সুফল এখন পাওয়া যাচ্ছে না।
নিকলী উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাসুদ হেলালী মন্তব্য করেন, নিকলী বেড়িবাঁধ ও নতুন সড়কের অধিকাংশ সৌরল্যাম্প নষ্ট থাকায় বাইরে থেকে আসা পর্যটকরা রাতে চলাচল করতে ভয় পান। জনসাধারণের নিরাপত্তা ও পর্যটকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে দ্রুত বাতিগুলো মেরামত করা জরুরি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন আগামীর সময়কে জানান, সরকারের সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তিন বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বর্তমানে সেগুলো মেরামত করা হচ্ছে না। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আলাদা কারিগরি অর্থও বরাদ্দ নেই। তবে বাতিগুলো মেরামতের জন্য বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।



