কাউনিয়ায় আখচাষিদের সুদিন
- ফলন ও দাম দুটোই ভালো

ছবি: আগামীর সময়
রংপুরের কাউনিয়ায় এবার ভালো হয়েছে আখের ফলন। একই সঙ্গে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দামও মিলছে ভালো। এতে লাভের মুখ দেখছেন উপজেলার আখচাষিরা। কৃষকরা বলছেন, একবার আবাদ করে ভালো দাম পাওয়ায় আখ চাষে আগ্রহ বাড়ছে তাদের। উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার কাউনিয়ায় ১৫ হেক্টর জমিতে গেন্ডারি উফশি, ঈশ্বরদী-১৬ ও স্থানীয় জাতের আখ চাষ হয়েছে। তিস্তা নদীবেষ্টিত চরবিশ্বনাথ, আজমখাঁ, চরগনাই, গদাই, চরঢুষমাড়া, গোপিডাঙ্গা, মধ্যহরিশ্বর, আরাজি হরিশ্বর, চরনাজিরদহ, প্রাণনাথচর, চরচতুরাসহ ২৯টি চরে অন্য ফসলের পাশাপাশি হচ্ছে আখ চাষ।
এবার ৬০ শতাংশ জমিতে গেন্ডারি আখ চাষ করেছেন মধ্যহরিশ্বর গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, আখ চাষে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। আখ রোপণের পর সাথি ফসল হিসেবে কাঁচা মরিচ চাষ করে উঠে এসেছে সেই খরচের একটি অংশ। এখন বিক্রি করছেন আখ। এ মৌসুমে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি আয় হবে বলে আশা করছেন তিনি। আগামী মৌসুমের জন্য সংরক্ষণও করেছেন আখের চারা।
হরিশ্বর বটতলা এলাকার কৃষক ইদ্রিস আলী বলেছেন, আশ্বিন মাসের শুরুতে আখের চারা রোপণ করা হয়। বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এসে ক্ষেত থেকেই আখ কিনছেন। বর্তমানে ১০০টি গেন্ডারি আখ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং দেশি জাতের আখ ৭০০-৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কৃষকরা জানিয়েছেন, বছরে একবার ফলন দেয় আখ। তবে বিক্রির সময় একসঙ্গে পাওয়া যায় বড় অঙ্কের টাকা। গোখাদ্য ও জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যায় আখের পাতা। তবে সহজশর্তে কৃষিঋণ, উন্নত বীজ, আধুনিক কৃষিযন্ত্র, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ, সংরক্ষণ ও বিপণনব্যবস্থা না থাকায় আরও বেশি লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাহউদ্দিন বলেছেন, চরাঞ্চলের পলিযুক্ত উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ভালো হয়েছে আখের ফলন। ১৫ হেক্টর জমি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮১৫ টন আখ। এবার সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করা হচ্ছে। কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও প্রণোদনা।





