বিরামপুর
ভোটার হতে ইউএনওর স্বাক্ষর জাল করে নাগরিকত্ব সনদ, গ্রেপ্তার ২

ছবি: আগামীর সময়
নতুন ভোটার হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য জাল নাগরিকত্ব সনদ ব্যবহার এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগে দিনাজপুরের বিরামপুরে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বিরামপুর পৌরশহরের পূর্ব জগন্নাথপুর এলাকার জামানের ছেলে সাইদুজ্জামান সুমন (৪২) এবং মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ধীৎপুর এলাকার সিদ্দিক মোল্লার ছেলে মনির হোসেন (৫১)।
সাইদুজ্জামান সুমন বিরামপুর নতুন বাজার এলাকার ‘সুমন ফটোকপি অ্যান্ড টেলিকম’র মালিক। মনির হোসেন বিরামপুর শহরের একটি কাপড়ের দোকানে কর্মরত। তিনি মুহিম হোসেন রোহানের বাবা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মুহিম হোসেন রোহানের নতুন ভোটার হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে বিরামপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে একটি ফাইল জমা দেওয়া হয়। কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় নাগরিকত্ব সনদটি নিয়ে সন্দেহ হলে নির্বাচন কার্যালয়ের স্ক্যানিং অ্যান্ড ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স অপারেটর প্রান্ত কুমার সনদটি পরীক্ষা করেন। এতে বিরামপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিনা খাতুনের স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে বলে দেখা যায়। তবে যাচাইয়ে স্বাক্ষরটি স্ক্যান করে জাল করা হয়েছে বলে ধরা পড়ে। একই সঙ্গে সনদে থাকা কিউআর কোডও সঠিক পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি কাগজপত্র যাচাই করেন। পরে সাইদুজ্জামান সুমন ও মনির হোসেনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাদের বিরামপুর থানায় নেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র আরও জানায়, জাল নাগরিকত্ব সনদটি মুহিম হোসেন রোহানের নামে তৈরি করা হয়েছিল। সনদ ব্যবহার করে তাকে নতুন ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক তানজিনা খাতুন বলেন, নির্বাচন কার্যালয়ে জমা দেওয়া কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় তার স্বাক্ষরযুক্ত নাগরিকত্ব সনদে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে সংশ্লিষ্ট দুজনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শামীম আল মামুন বলেন, জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পৌরসভার পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।




