সরকারি খরচে গার্মেন্টসকর্মী নিচ্ছে জর্ডান

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দুই বছর আগে স্থানীয় এক দালালকে সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য এক লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন রুকিয়া খাতুন। বিদেশে যেতে পারেননি দালালের খপ্পরে পড়ে। ফেরত পাননি দালালকে দেওয়া টাকাও। এতে গচ্ছা দিতে হয়েছে সুদসহ প্রায় ৬০ হাজার টাকা। ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার সিডস্টোর গ্রামে রুকিয়া খাতুনের বাড়ি। শুধুমাত্র রুকিয়া খাতুনসহ বিদেশ গমনে ইচ্ছুক আরও বেশ কয়েকজন নারীর এমন অবস্থা।
আজ শনিবার উপজেলা পরিষদের হল রুমে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) উদ্যোগে দক্ষ ও স্বল্পদক্ষ শ্রমিক বাছাই করণ সভায় উপস্থিত নারীদের থেকে বিষয়টি জানা যায়। বোয়েসেলের প্রাথমিক বাছাইয়ে সনাক্ত করা হয়েছে রুকিয়া খাতুনসহ মোট ৪৮ জনকে।
রুকিয়া খাতুন বলছেন, স্থানীয় সুজন নামের এক ব্যক্তির সাথে তিন লাখ টাকা কন্ট্রাক করে সৌদি আরবে ক্লিনার ভিসায় যাওয়ার জন্য সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে দেড় লাখ টাকা দিয়েছিলেন। তবে সেই ব্যক্তি তাকে সৌদি আরব পাঠাতে পারেননি। অনেক বিচার-সালিশ হলেও বিশ হাজার টাকা কম দিয়েছে সেই ব্যাক্তি। যার কারণে সমিতির সুদসহ প্রায় ৬০ হাজার টাকা গচ্ছা দিতে হয়েছে রুকিয়া খাতুনকে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সাংসদ ফখর উদ্দিন আহমেদ,অতিরিক্ত সচিব ও বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, বোয়েসেলের পরিচালক নাজমুন্নাহার,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকবাল হোসাইন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জাহিদা ফেরসৌসী প্রমুখ।
বোয়েসেল জানিয়েছেন, দক্ষ নারী শ্রমিকেরা বিনা খরচে সরকারী ভাবে জর্ডান যেতে পারবেন। বিদেশে যেতে ইচ্ছুক নারীদের ব্যক্তিগত খরচে শুধুমাত্র পাসপোর্ট করতে হবে। স্বল্পদক্ষ নারীদেরও বোয়েসেলের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিয়ে জর্ডান নেওয়া হবে।
পাসপোর্ট করতে গিয়ে বাছাইকৃত নারীরা যাতে কোনো ধরণের হয়রানীর শিকার না হয় সেই বিষয়টির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে। প্রশিক্ষিত এসব নারী শ্রমিকদের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর জর্ডানে পাঠানো হবে। প্রতি শনিবার কোটা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত উপজেলা পরিষদের হল রুমে বোয়েসেলের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বাছাই কার্যক্রম চলমান থাকবে।
বোয়েসেলের পরিচালক জানিয়েছেন, বিনা খরচে প্রাথমিক ভাবে জর্ডানে পাঁচ হাজার নারী গার্মেন্টেস কর্মীর চাহিদা রয়েছে। গার্মেন্টেসের সেলাই মেশিন চালানোয় দক্ষ অথবা স্বল্পদক্ষতা থাকতে হবে। জর্ডানে যাতায়াতের বিমান ভাড়া বহন করবে সেই দেশের নিয়োগকারী কোম্পানী। থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসা ব্যয়ও বহন করবে কোম্পানি। প্রতি মাসে ওভার টাইম সুবিধা ব্যতীত একজন শ্রমিকের মূল বেতন ধরা হবে ২২ হাজার ১০০ টাকা। চাকরির মেয়াদ হবে তিন বছর। যা নবায়ন যোগ্য।
সাংসদ ফখর উদ্দিন আহমেদ বলছেন, বোয়েসেলের মাধ্যমে যারা জর্ডান যাবেন, তাদের কেউ যদি কোনো ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হলে সেটার সকল দায়-দ্বায়িত্ব তিনি নিবেন। তিনি আহবান জানান, কর্মক্ষেত্রে হয়রানীর শিকার হলে মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য । একই সাথে তিনি আরও আহবান করেন, কোন ব্যক্তি টাকা দাবি করলে তাদের নাম-ঠিকানা দেওয়ার জন্য।




