সমুদ্র দিবসে কক্সবাজারের সৈকত থেকে ৭ টন বর্জ্য অপসারণ

ছবি: আগামীর সময়
আন্তর্জাতিক সমুদ্র দিবস-২০২৬ উপলক্ষে কক্সবাজারের লাবনী ও ইনানী সমুদ্রসৈকতে দুই দিনব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কেওক্রাডং বাংলাদেশ।
গতকাল শুক্রবার ও আজ শনিবার পরিচালিত এ অভিযানে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে প্রায় ৭ টন প্লাস্টিক ও অন্যান্য অপচনশীল বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, সংগ্রহ করা বর্জ্যের মধ্যে ছিল প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেটসহ বিভিন্ন ধরনের অপচনশীল আবর্জনা। পরে সেগুলো কক্সবাজার পৌরসভার ডাম্পিং স্টেশনে নিয়ে ফেলা হয়।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে কেওক্রাডং বাংলাদেশের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নেন।
আয়োজকদের ভাষ্য, প্লাস্টিক ও অপচনশীল বর্জ্যের কারণে দিন দিন কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। সৈকতকে আগের রূপে ফিরিয়ে আনা এবং পর্যটকদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক সমুদ্র দিবস উপলক্ষে এ ধরনের পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে কেওক্রাডং বাংলাদেশ।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মাখদুম বলেন, সমুদ্রসৈকতে বিপুল পরিমাণ অপচনশীল বর্জ্য দেখে তারা বিস্মিত হয়েছেন। পর্যটকরা সচেতন হলে সমুদ্রসৈকতের পরিবেশ অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন ও সৌন্দর্যমণ্ডিত রাখা সম্ভব হবে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে কর্মসূচিতে অংশ নিতে আসা সৃজিতা রায় বলেন, সমুদ্র ভ্রমণে এসে অনেকেই প্লাস্টিকজাত বর্জ্য যেখানে-সেখানে ফেলে দেন। এসব বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেললে সহজেই পুনর্ব্যবহার (রিসাইক্লিং) করা সম্ভব। বাংলাদেশ ও ভারতে প্লাস্টিকের ব্যবহার বেশি হওয়ায় এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
কেওক্রাডং বাংলাদেশের পরিচালক মুনতাসির মামুন জানিয়েছেন, প্রায় দুই দশক ধরে তারা পরিবেশ রক্ষায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তার মতে, আবর্জনা ব্যবস্থাপনা শুধু রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়, প্রতিটি নাগরিকেরও দায়িত্ব। সবাই যদি ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ থেকে বর্জ্য যথাস্থানে ফেলে, তাহলে জনবহুল দেশেও আবর্জনা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে না।
তিনি বলেছেন, ‘পরিচ্ছন্ন সমুদ্রসৈকত রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।’




