গাজীপুরে আবারও শ্রমিক বিক্ষোভ, টিয়ারশেল-সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কোনাবাড়ী, কাশিমপুর ও জরুনসহ বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ছবি: আগামীর সময়
বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরে আবারও কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেছেন। রবিবার বিকাল থেকে মহানগরীর কোনাবাড়ীর জরুন, চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ ও কাশিমপুর এলাকার কয়েকটি কারখানায় এ বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। শ্রমিক বিক্ষোভের মুখে কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়রা জানালেন, রবিবার সকালে কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় মণ্ডল গ্রুপের একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজে যোগ দেন। তবে দুপুরের দিকে তারা কাজ বন্ধ করে কারখানা থেকে বেরিয়ে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে আশপাশের কয়েকটি কারখানার ছুটি দাবি করেন তারা। পাশাপাশি সেসব কারখানার শ্রমিকদেরও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। পরে কয়েকটি কারখানা ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
এরপর বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা বিভিন্ন সড়কে মিছিল বের করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ছাড়া কোনাবাড়ী, জরুন ও কাশিমপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এদিকে চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় একটি কারখানার শ্রমিকেরাও বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পরে কর্তৃপক্ষ রবিবারের জন্য কারখানাটি ছুটি ঘোষণা করে। কাশিমপুর এলাকার কয়েকটি কারখানায়ও শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেসব কারখানায়ও ছুটি ঘোষণা করা হয়।
তবে এসব এলাকা ছাড়া গাজীপুরের অন্যান্য শিল্পাঞ্চলে পোশাক কারখানার কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২-এর পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন বললেন, কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কয়েকটি কারখানা কর্তৃপক্ষ রবিবারের জন্য ছুটি ঘোষণা করেছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কোনাবাড়ী, কাশিমপুর ও জরুনসহ বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
উল্লেখ্য, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছিলেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে পুলিশ বক্স, পুলিশের গাড়ি ও কারখানার গুদামে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে। কয়েক দফায় শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এতে শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আহত হন। এসব ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
এ ছাড়া আন্দোলন চলাকালে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণের সময় শ্রমিকদের মারধরের শিকার হয়ে তৌফিক নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।



