বাজারে সারের সংকট তৈরির চেষ্টায় ‘দুই নম্বর পক্ষ’ : কৃষিমন্ত্রী

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের সুফলভোগীদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ। ছবি: আগামীর সময়
দেশের বাজারে সারের মজুদ আছে চাহিদার তুলনায় বেশি। তারপরও কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চলছে বলে জানালেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ।
তিনি বলেছেন, ‘মার্কেটে এই মুহূর্তে যত সারের প্রয়োজনীয়তা আছে, তার চেয়ে বেশি মজুদ আছে। একটি পক্ষ আছে দুই নম্বর, কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্ট করছে। ইনশাআল্লাহ তারা পারবে না।’
আজ বুধবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মন্ত্রী। সেখানেই বলেছেন এসব কথা। কৃষিপণ্য আগামীতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রপ্তানিযোগ্য পণ্য হবে বলে এসময় জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকার কৃষকের সরকার। সরকারের প্রধান লক্ষ্য কৃষকদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং তাদের উৎপাদন খরচ কমানো।’
‘বাংলাদেশের ৭৫ ভাগ মানুষ কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। কৃষকদের অর্থনীতি যদি শক্তিশালী হয়, তবে দেশের সার্বিক অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে’- যোগ করেন তিনি।
কৃষি কার্ডের প্রসঙ্গও আসে মন্ত্রীর বক্তব্যে। ‘সরকার কৃষি কার্ড চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানতে পারবে আপনি কতটুকু জমিতে আলু রোপণ করেছেন। বিষয়টি সরকারের রেকর্ডে থাকবে। আপনার জমিতে কী পরিমাণ সারের প্রয়োজন সেটিও সরকারের রিপোর্টে উল্লেখ থাকবে। সেই অনুযায়ী আলু তোলার আগেই সরকার একটি পরিকল্পনা তৈরি করে ফেলতে পারবে’- বললেন তিনি।
নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের সুফলভোগীদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল গজারিয়ায়। আয়োজক ছিল উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল।
মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক গোলাম মোস্তফা খান ও প্রকল্প পরিচালক ড. আবদুর রহিম।
অন্য অতিথিদের মধ্যে ছিলেন, গজারিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সিদ্দিক উল্লাহ ফরিদ, মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম ভিপি মাসুম, ইসহাক আলী, মাসুদ ফারুক, অধ্যাপক এ কে এম গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ ও গজারিয়া উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব নাজির আহমেদ সিকদার।
অনুষ্ঠান শেষে সুবিধাভোগী খামারিদের মাঝে ২৫টি বকনা বাছুর ও প্রতিজনকে ৫০ কেজি করে গোখাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়।








