সিলেটে ব্যবসায়ী হত্যা মামলায় যুবক গ্রেপ্তার

নিহত ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিন (৬৫) ও গ্রেপ্তার হওয়া যুবক জালাল আহমদ (৪০)। সংগৃহীত ছবি
সিলেট নগরীতে ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিন (৬৫) হত্যা মামলায় জালাল আহমদ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে আটকের পর পুলিশে সোপর্দ করেন স্থানীয় জনতা।
পরে জালালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার যুবকের বাড়ি সুনামগঞ্জে। তিনি নগরীর শাহপরাণ এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
আজ বুধবার দুপুরে তাকে শাহাব উদ্দিন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এসব তথ্য জানান শাহপরাণ (রহ.) থানার ওসি মো. মনির হোসেন।
স্থানীয়রা জানান, গত রবিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ইসলামাবাদ এলাকায় নিজ বাসার সামনে শাহাব উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তার বাড়ি বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই এলাকায়। চারখাই বাজারে ভোগ্যপণ্যের ব্যবসা করতেন তিনি। পাশাপাশি তিনি চা-পান বিক্রি করতেন। পরিবার নিয়ে ইসলামাবাদ এলাকায় বসবাস করতেন।
ওসি মনির জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয়রা সন্দেহের ভিত্তিতে জালালকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তিনি শাহাব উদ্দিনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে তারা জানিয়েছেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কিরিচটি উদ্ধার করা হয়।
জালালকে আটক করে স্থানীয়রা জিজ্ঞাসাবাদ করছেন, এরকম একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাকে একজন পুলিশ সদস্যের পাশে বসে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে দেখা যায়। সেখানে জালাল দাবি করেন, স্থানীয় এক নারীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই নারী স্থানীয় এক হোটেলকর্মীর স্ত্রী বলে ভিডিওতে দাবি করেন তিনি। ওই নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়কে কেন্দ্র করে শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয় এবং তিনি তাকে গালিগালাজ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি তাকে হত্যা করেন বলে জানান জালাল।
তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনো নিশ্চিত নয় পুলিশ। পুলিশের ধারণা, হত্যার পেছনে অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে।
হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, ‘আসামি আদালতে জবানবন্দি দিলে বিষয়টি জানা যাবে। এর আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়।’
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলমের ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিও তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।
এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে শাহপরাণ (রহ.) থানায় মামলা করেন নিহতের স্ত্রী লিনা বেগম।
পুলিশের বলছে, শাহাব উদ্দিনকে হত্যার ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে। হত্যাকাণ্ডের আগে দুর্বৃত্তরা তাকে অনুসরণ করেছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গত ১২ আগস্ট সিলেট নগরের রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার একটি বাসায় ব্যবসায়ী মো. আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (১৫) হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার বাবুল প্রথমে সম্পর্কজনিত বিরোধের কথা বললেও পরে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে চুরির উদ্দেশ্যে ওই বাসায় গিয়ে ধরা পড়ে যাওয়ায় তিনজনকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানায়।
একই মাসে নগরে পরপর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শাহাব উদ্দিন হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ঘটনায় জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।







