ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা সীমান্তে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ১৪০ বিজিবি সদস্য মোতায়েন

ছবি: আগামীর সময়
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৪০ জন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করেছে সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি)। একই সঙ্গে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ৫৯ জন আসামিসহ আনুমানিক ১৬৮ কোটি টাকা মূল্যের চোরাচালানি মালামাল জব্দ করেছে ব্যাটালিয়নটি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন নিশ্চিত করতে গত ১০ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত সীমান্তবর্তী আট কিলোমিটার এলাকা এবং ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের আশপাশের ৫৬টি পূজামণ্ডপে রেকি ও প্রস্তুতিমূলক টহল পরিচালনা করা হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ অক্টোবর থেকে দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সাত প্লাটুনে মোট ১৪০ জন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কালিকাপুর আব্দুল মতিন খসরু কলেজে একটি প্লাটুন নিয়ে বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া ব্যাটালিয়ন সদরে একটি এবং সীমান্তের বিভিন্ন বিওপিতে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।
পূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের জন্য ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। সেলটি নিয়মিত টহল কার্যক্রম তদারকির পাশাপাশি ‘শারদীয় সুরক্ষা’ অ্যাপের কার্যক্রমও সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম জানান, চলমান দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এখন পর্যন্ত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। বুধবার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হবে। উৎসবের শেষ পর্যায়ে প্রতিমা বিসর্জনসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে, চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছে সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে ৫৯ জন আসামিসহ আনুমানিক ১৬৮ কোটি টাকা মূল্যের চোরাচালানি মালামাল জব্দ করা হয়েছে।
ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক বলেন, চোরাচালানি মালামাল পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।





