মাধবপুর
বিদ্যুৎ গেলেই থেমে যায় খামার

বিদ্যুৎ চলে গেলেই দুশ্চিন্তায় পড়ে যান মাধবপুরের পোল্ট্রি খামারিরা। প্রচণ্ড গরমে একদিকে মুরগিগুলো হাঁপিয়ে ওঠে, অন্যদিকে বন্ধ হয়ে যায় ফ্যান, পানির পাম্প ও কুলিং ব্যবস্থা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় মুরগির মৃত্যু, উৎপাদন কমে যাওয়া এবং বাড়তি খরচ—সব মিলিয়ে বিপাকে পড়েছেন খামারিরা।
খামারিদের অভিযোগ, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনে-রাতে মিলিয়ে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। গরমের সময় দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকলে খামারের ভেতরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। তখন মুরগিগুলো অস্থির হয়ে পড়ে, হাঁপাতে থাকে। পানি সরবরাহও ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাধ্য হয়ে অনেক খামারি জেনারেটর চালাচ্ছেন। এতে বাড়ছে ডিজেল খরচ, কমছে লাভ।
উপজেলার পরমানন্দপুর গ্রামের খামারি আশফাক হক বলেন, আমার খামারে প্রায় ৩ হাজার ব্রয়লার মুরগি। বিদ্যুৎ না থাকলে গরমে মুরগিগুলো হাঁপিয়ে ওঠে, কয়েকটি মারাও গেছে। জেনারেটর চালিয়ে খামার সচল রাখতে হচ্ছে। এতে খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
নোয়াপাড়া ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের খামারি মিনহাজুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে ফ্যান ও পানির ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। গরমে মুরগি সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। জেনারেটর চালিয়ে খামার সচল রাখতে বাড়তি খরচ হচ্ছে।
ছাতিয়াইন ইউনিয়নের খামারি ফেরদৌস মিয়া বলেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় খামার পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে অনেক খামারি লোকসানে পড়ে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে পারেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মাধবপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ২৫০টির বেশি পোল্ট্রি খামার রয়েছে। এসব খামার বিদ্যুতের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। মুরগির উপযুক্ত তাপমাত্রা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করতে হয়। পাশাপাশি পানি সরবরাহের জন্য বৈদ্যুতিক পাম্প চালাতে হয়। ফলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে খামারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
মাধবপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মিঠুন সরকার বলেন, উপজেলায় ২৫০টির বেশি পোল্ট্রি খামার রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে খামারিরা মারাত্মক সমস্যায় পড়েছেন। গরমের সময়ে বিদ্যুৎ না থাকলে মুরগির ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ে।
মাধবপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম (অপারেশন) ইউসুফ আলী বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুতের সরবরাহ কম পাওয়ায় নির্দিষ্ট সময় লোড ম্যানেজমেন্ট করতে হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু এলাকায় রক্ষণাবেক্ষণ কাজও চলছে। পরিস্থিতির উন্নয়নে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
খামারিদের ভাষ্য, একটি মুরগির পেছনে তাদের কয়েক সপ্তাহের খাবার, ওষুধ ও পরিচর্যার খরচ থাকে। শেষ সময়ে এসে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে মুরগি মারা গেলে সেই ক্ষতি আর পুষিয়ে ওঠা সম্ভব হয় না। ফলে শুধু বিদ্যুৎ সংকট নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাদের পরিবারের আয়-রোজগার ও বিনিয়োগের নিরাপত্তাও।
খামারিদের দাবি, পোল্ট্রি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে গরমের এই সময়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে ছোট ও মাঝারি খামারগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।







