ভেদরগঞ্জে চুরির অপবাদে মধ্যবয়স্ক নারীকে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

সংগৃহীত ছবি
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় চুরির অপবাদ দিয়ে এক মধ্যবয়স্ক নারীকে প্রকাশ্যে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছয়গাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার। এদিকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ বলছে, ছয়গাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লার বাড়ি থেকে দুই লাখ টাকা ও চার ভরি স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগ ওঠে। ওই অভিযোগের জেরে গত বৃহস্পতিবার ছয়গাঁও এলাকার আবুল শেখের স্ত্রী ও ছয় সন্তানের জননী নারগিস বেগমকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন মিলে ওই নারীর দুই হাত চেপে ধরে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। নির্যাতনের সময় নারগিস বেগম বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও তা উপেক্ষা করা হয়। একপর্যায়ে মারধরের ফলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি এক নারীর দুই হাত ধরে রেখেছেন। এ সময় আরেক ব্যক্তি লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করছেন। মারধরের একপর্যায়ে ওই নারী মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও আবার তাকে তুলে মারধর করা হয়। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী নারগিস বেগম বললেন, ‘আমি কোনো চুরি করিনি। আমাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বাড়ি থেকে জোর করে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’
নারগিস বেগমের ছেলে গোলাম রাব্বি বললেন, ‘আমাদের পরিবারে কোনো অভাব নেই। আমার এক ভাই প্রবাসে থাকেন। আমার মা কোনো চুরি করেননি। তারপরও তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। তিনি একজন স্ট্রোকের রোগী। অপরাধ করলেও আইনের আশ্রয় নেওয়া উচিত ছিল। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
ওই নারীর মেয়ে মেহেরুনের বললেন, ‘আমার মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে যাওয়া উচিত ছিল। প্রকাশ্যে লাঠিপেটা করার কোনো অধিকার কারও নেই। আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন মোল্লার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি মাসুদুর রহমান জানালেন, ‘কোনো ব্যক্তিকে তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া এভাবে নির্যাতন করা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।
ভেদরগঞ্জ থানার ওসি আবুল বাসার বললেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে আহত নারীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।’




