কৃষকের ক্ষোভে প্রাণ গেল ৫৬ বাবুই ছানার

মাটিতে পড়ে নষ্ট হয়েছে বাবুইয়ের ডিম ও বাসা। ছবি: আগামীর সময়
জমির পাশে এক পায়ে দাঁড়িয়ে তালগাছ। তার আগায় খড়কুটো দিয়ে বানানো কুটির ছিল বাবুই পাখিদের। যেন রজনীকান্ত সেনের কবিতার মতো, ‘নিজ হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর খাসা’। কুটিরগুলো মুখরিত থাকত কিচিরমিচিরে। ছিল অর্ধশত ছানা। শেষবেলায় ছানাগুলো জমি থেকে খাবার কুড়িয়ে ফিরে যেত কুটিরে। মাতিয়ে রাখত সারা বিকেল।
প্রকৃতির এই দানে কেউ কেউ মুগ্ধ হলেও জমির মালিকের মনে ছিল বাবুইগুলোর প্রতি চাপা ক্ষোভ। জমির ফসল যাবে কি-না বাবুইয়ের কুঁড়েঘরে! এমন ‘ঘোর অনাচার’ সহ্য হলো না তার। বাঁশ দিয়ে ভেঙে দিলেন বাসাগুলো। মাটিতে পড়ে থাকা বাসার ভেতরেই মরে গেল বাবুইয়ের ৫৬টি ছানা।
প্রকৃতির সঙ্গে এমন নির্মমতা চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পোপাদিয়া ইউনিয়নের ঈশ্বরভট্ট বাজার এলাকায়। প্রায় ৫০ বছর বয়সী কৃষক বাচা মিয়ার এমন নির্দয় আচরণে ব্যথিত প্রকৃতিপ্রেমীরা। তারা অভিযোগ দিয়েছেন বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে।
অভিযোগ পেয়ে আজ বুধবার বিকেলে তিনি ছুটে যান ঘটনাস্থলে। ভ্রাম্যমাণ আদালতে বাচা মিয়াকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে জেলে পাঠান ইউএনও।
কমপক্ষে ২২টি বাসা ভেঙে বাবুইয়ের প্রায় ৬০টি ছানা হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ কবি ও সাংবাদিক পূজন সেনের।
‘ফসল ক্ষতি করার অজুহাতে বাবুইয়ের বাসাগুলো ভেঙে দেন বাচা মিয়া। নিচে মরে পড়ে থাকা অনেকগুলো ছানা খেয়ে ফেলেছে কাক। ঘটনাটা খুবই মর্মান্তিক, হৃদয়বিদারক।’ ঘটনাস্থল দেখে এসে জানালেন তিনি।
ইউএনও মেহেদী হাসান ফারুক জানান, ‘৫৬টি ছানা মেরে ফেলার অভিযোগ আমরা পাই। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি মাটিতে পড়েছিল ৮টি বাসা। সেখানে ছিল ৩০টির মতো মৃত ছানা। পেয়েছি অনেকগুলো নষ্ট ডিম। আটক কৃষকের দাবি, জমির ফসল খেয়ে নষ্ট করত পাখিরা। বিস্মিত হয়েছি এমন ঠুনকো অজুহাতে।’
‘এলাকার লোকজন জানিয়েছেন, উনি প্রচণ্ড বদমেজাজি। আগেও এমন কাজ করেছেন তিনি। তবে আটকের পর দেখি উনি খুবই অনুতপ্ত। আর কখনো এমন নির্দয় আচরণ করবেন না বলে দিয়েছেন মুচলেকা’, যোগ করলেন ইউএনও।
কৃষককে কারাদণ্ডের পাশাপশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনে।


