বাগেরহাট
ময়লা-দখলমুক্ত হচ্ছে খাল, স্বস্তির আশা নগরবাসীর

আজ মঙ্গলবার দুপুরে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে বাগেরহাটে খাল পুনরুদ্ধার অভিযান কর্মসূচি করা হয়। ছবি: আগামীর সময়
বাগেরহাট পৌর শহরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে সরকারি খাল ও জলাশয় পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা। এ লক্ষ্যে খাল ও জলাশয়ের সীমানা নির্ধারণ, ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, অবৈধ দখল ও বাঁধ উচ্ছেদ এবং খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে শহরের আলীয়া মাদ্রাসা সড়কসংলগ্ন বালিয়ার খালে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধনের মাধ্যমে এ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, সুজন বাগেরহাটের সম্পাদক এস কে হাসিব, বাগেরহাট কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, পুরাতন কোর্ট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা রুহুল আমিনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, শহরের বিভিন্ন খাল ও জলাশয় থেকে ময়লা-আবর্জনা অপসারণের পাশাপাশি সীমানা নির্ধারণের মাধ্যমে দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অতীতেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলোর সুফল দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তাই এবার কার্যক্রম যেন মাঝপথে থেমে না যায়, সে বিষয়ে নাগরিক সমাজ ও এলাকাবাসীকে সক্রিয় নজরদারি অব্যাহত রাখতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আরিফুল ইসলাম বলেছেন, ‘শহরের খালগুলো রক্ষা ও দখলমুক্ত করার জন্য অতীতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। এবার জেলা প্রশাসন, পৌরসভা, বাগেরহাট সোসাইটি এবং পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত রেখে কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে খালগুলোতে বর্জ্য ফেলা ও অবৈধ দখলের কারণে অনেক খাল অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এতে শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত খালগুলো পুনরুদ্ধার করা না গেলে ভবিষ্যতে নগরবাসীকে আরও বড় সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে।’
পৌর প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেছেন, ‘ইতোমধ্যে শহরের বিভিন্ন খাল পরিদর্শন করে কোথায় পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে এবং কোথায় অবৈধ বাঁধ রয়েছে তা চিহ্নিত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করে খালগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার কাজ করা হবে।’
জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেছেন, ‘বাগেরহাট পৌর এলাকায় মোট আটটি খাল রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে খালে বর্জ্য ফেলা ও অবৈধ দখলের কারণে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। খাল পরিষ্কার, খনন, সীমানা নির্ধারণ এবং দখলমুক্ত করার কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে।’
একই সঙ্গে সরকারি খাল ও জলাশয় রক্ষায় সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।




