ভাঙ্গা
কুমার নদে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ

ছবি: আগামীর সময়
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ।
বিশ্বকর্মা পূজা উপলক্ষে আজ শুক্রবার বিকেলে ভাঙ্গা পৌর শহরের কুমার নদে আয়োজিত এ নৌকাবাইচ দেখতে নদীর দুই তীরে জড়ো হন হাজার হাজার মানুষ। দীর্ঘদিন পর এমন আয়োজন ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে দেখা দেয় ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে ভাঙ্গা পৌর শহরের কুমার নদে নৌকাবাইচের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম খান বাবুলের উদ্যোগে এ নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়।
নৌকাবাইচ উপলক্ষে ভাঙ্গা পৌরসভার খাদ্য গুদামসংলগ্ন কুমার নদীর তীরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে এবং ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আইয়ুব আলী মোল্লার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নৌকাবাইচের প্রধান উদ্যোক্তা ও ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম খান বাবুল, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলাম, ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও ফরিদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আফজাল হোসেন খান পলাশ, ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজি, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলে সোবহান শামীম, যুবদলের সভাপতি ওসমান মুন্সীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
নৌকাবাইচ শুরু হয় পৌরসভার সোনাখোলা মরিচপট্টি এলাকা থেকে। প্রায় তিন কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিয়ে পৌরসভার ছিলাধর মহল্লায় গিয়ে শেষ হয় প্রতিযোগিতা। এতে অংশ নেয় ২৬টি নৌকা। প্রতিটি নৌকার মাঝি-মাল্লারা পরেছিলেন ভিন্ন ভিন্ন রঙের পোশাক। তাদের ছন্দময় বৈঠার টানে কুমার নদে তৈরি হয় দারুণ এক দৃশ্য। বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর নৌকার তীব্র গতিতে মুহূর্তেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে নদীর দুই পাড়ে।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া কয়েকটি নৌকা ছিল ১২০ থেকে ১৪০ ফুট পর্যন্ত লম্বা। নৌকাবাইচ দেখতে নদীর দুই তীরে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। আশপাশের ভবনের ছাদ, সেতু ও বিভিন্ন উঁচু স্থানে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ উপভোগ করেন নৌকাবাইচ। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে নৌকা ভাড়া করেও নদীতে অবস্থান নেন। ফলে কুমার নদের ওপরের সেতুগুলোতেও ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়।
নৌকাবাইচকে ঘিরে কুমার নদের দুই তীরে বসে যায় কয়েক শ ভাসমান দোকান। মিষ্টি, খেলনা, খাবারসহ নানা ধরনের গৃহস্থালি ও প্রয়োজনীয় পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। এতে নৌকাবাইচের আয়োজন রূপ নেয় বড় ধরনের লোকজ উৎসবে।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ফ্রিজ।
এ ছাড়া অংশগ্রহণকারী প্রতিটি নৌকাকে সৌজন্য পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় একটি করে এলইডি টেলিভিশন। ঐতিহ্যবাহী এ নৌকাবাইচকে ঘিরে পুরো ভাঙ্গাজুড়ে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ।



